• ঢাকা
  • বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০

যে দেশে নেই নারী নির্যাতন, শিশু-কিশোররাও ধূমপানে আসক্ত 


আন্তর্জাতিক ডেস্ক সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৩, ০৩:২৩ পিএম
যে দেশে নেই নারী নির্যাতন, শিশু-কিশোররাও ধূমপানে আসক্ত 

ঢাকা: ইতিহাস বলে বিয়াল্লিশ হাজার বছর আগে এক জনপদে প্রথম মানুষের বসতি হয়। অন্তত শেষ তিনটি অভিবাসী জাতিগোষ্ঠীর মানুষ এখনো সেখানে আছে। দেশটির নাম পূর্ব তিমুর। এশীয়া-প্রশান্ত মহাসারগীয় অঞ্চলে দুই হাজার দুই সাল থেকে স্বাধীন এক নতুন জাতি রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়। নতুন সেই দেশটির নাম তিমুর-লেস্তে। এটা পূর্ব তিমুর নামেই বেশি পরিচিত।

একটা সময় ছিল, যখন ইন্দোনেশিয়া নামে কোনো দেশ ছিল না। এখানে ছিল হাজার হাজার দ্বীপ। সংখ্যাটা বারো থেকে সতেরো হাজার। ইউরোপের দেশগুলো তখন সমুদ্রজয়ে ব্যস্ত। সাগর পাড়ি দিয়ে তারা দূরবর্তী দেশগুলোতে যাচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করে ক্রমে উপনিবেশ স্থাপন করে চলেছে। তাদের মধ্যে একটি ছিল ওলন্দাজরা। এরা হল্যান্ডের (নেদারল্যান্ডস) অধিবাসী। এরা ভারতেও এসেছিল। তবে ইংরেজদের তাড়া খেয়ে তারা পুবে চলে যায় এবং একটার পর একটা দ্বীপ দখল করে নতুন উপনিবেশ তৈরি করে। কালক্রমে এর নাম হয় ইন্দোনেশিয়া।

১৬৫১ সালে ওলন্দাজরা তিমুরের পশ্চিমে কুপাং রাজ্যটি দখল করে নেয়। এটা ছিল তিমুর দ্বীপের প্রায় অর্ধেক। তিমুরের পুবের অংশটি তখন পর্তুগিজদের দখলে। পর্তুগিজ ব্যবসায়ী ও ধর্মযাজকেরা ১৫৫১ সালেই সেখানে পৌঁছেছিলেন। ১৮৫৯ সালে পতুর্গালের সঙ্গে ওলান্দাজদের একটা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী পূর্ব তিমুর পর্তুগালের উপনিবেশ হিসেবে থেকে যায়। পশ্চিম তিমুর হয় ইন্দোনেশিয়ার অংশ। ১৯৪৫ সালে ইন্দোনেশিয়া স্বাধীন হলে পশ্চিম তিমুর ইন্দোনেশিয়ার অংশ হিসেবেই থেকে যায়।

পঁচাত্তরের ২৮ নভেম্বর বামঘেঁষা রাজনৈতিক দল ফ্রেতিলিন পূর্ব তিমুরের একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এর ফলে পূর্ব তিমুরে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তিমুরের অধিবাসীদের একাংশ ছিল ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে থাকার পক্ষপাতী। তাদের ইন্ধনে ইন্দোনেশিয়া সৈন্য পাঠিয়ে পূর্ব তিমুর দখল করে নেয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দুনিয়া এ আগ্রাসনে ইন্দোনেশিয়াকে প্রচ্ছন্ন সমর্থন দেয়। কারণ পূর্ব তিমুরের স্বাধীনতাকামীরা ‘মার্কসবাদী’ হিসেবে পরিচিতি ছিল। ইন্দোনেশীয় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে শুরু হয় ফ্রেতিলিনের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে পূর্ব তিমুরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ নিহত হয়। ১৯৯৬ সালে পূর্ব তিমুরে মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ের সৈনিক জোসে রামোস হোর্তা এবং রাজধানী দিলির বিশপ জিমেনেস বেলো যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। ইন্দোনেশীয় সরকার ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্ট পূর্ব তিমুরে গণভোটের আয়োজন করে। নব্বই শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দেন। আটাত্তর শতাংশেরও বেশি মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেন।

গণভোটের রায়ে প্রতিহিংসায় মেতে ওঠে ইন্দোনেশীয় বাহিনী, তারা পূর্ব তিমুরে নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। জাতিসংঘ পূর্ব তিমুরের জনগণের জানমাল রক্ষায় শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠায়। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ২০০২ সালের ২০ মে গণপরিষদে নতুন সংবিধান অনুমোদিত হয় এবং ওই দিনটি পূর্ব তিমুরে ‘স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার দিবস’ হিসেবে গণ্য হয়।১৪ এপ্রিল ২০০২ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী আলেকজান্ডার হোসে জানানা গুসামাও রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেয়।

তিমুরের মানুষগুলো খুব সাধারণ, সহজ-সরল এবং শান্তিপ্রিয়। আর্থিকভাবে অনুন্নতই বলা যায়। তবে বিস্ময়কর ব্যাপার হল, এখানে ডলারে কেনাবেচা হয়। ১০ ডলারের নোট সবচেয়ে প্রচলিত। দেশটির জনসংখ্যার ৯৬.৯ ভাগই রোমান ক্যাথলিক। বাকি মাত্র ৩ ভাগ অন্য ধর্মাবলম্বী। ১৫ টা ভাষা চালু থাকলেও তেতুম অফিশিয়াল ভাষা। আর চলে পর্তুগিজ। শতকরা ৩০ ভাগ মানুষ ইংরেজি জানে। স্কুলগুলোতেও পর্তুগিজ পড়ানো হয়। দেশটিতে ধূমপান ঐতিহ্য আকার নিয়েছে। এখানে দুই তৃতীয়াংশ মানুষই ধূমপানে আসক্ত। বিস্ময়কর মনে হলেও দেশটির নারী-পুরুষ ভেদাভেদহীন ধূমপায়ী! এমনকি জোয়ান-বুড়োদের মতো শিশু-কিশোররাও ধূমপানে আসক্ত দেশটিতে। সমীক্ষা মতে, পূর্ব তিমুরই সবচেয়ে বেশি ধূমপায়ীর দেশ। তবে এদেশের নারীরা ভীষণ নিরাপদ। নারতী নির্যাতন এদেশে নেই বললেই চলে। 

তিমুরে নানা ধরনের মাছ পাওয়া যায়। আছে প্রচুর রসালো ফল। পেপে, তরমুজ, কলা, ড্রাগন ফল, আনারস, বাংগিসহ আরও অনেক ফল। পথে পথে বিক্রি হচ্ছে ডাব আর নারকেল। তাদের মূল খাবার আঠালো ভাত আর কলমি শাক, তেতুম ভাষায় কানকুন। এছাড়া শূকরের মাংস, মাছ, পুদিনা পাতা, তেঁতুল, ভুট্টা, সবজি আর ফল তাদের খাবারের তালিকায় আছে। সাগর পাড়ে থাই, তিমুরিজ, ফিলিপিনো, ইন্দোনেশীয় ও চাইনিজ খাবারের দোকান আছে। রয়েছে শুধু মাছ খাওয়ার দোকান। রান্নাও খুব মজাদার। তবে সব দোকানই বাঁশ, বেত বা কাঠের তৈরি। তিমুরে বাংলাদেশিরা বড় বড় ব্যবসার সাথে জড়িত। আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা বাংলাদেশিদের হাতে।

সূত্র-ইন্টারনেট

আইএ

Wordbridge School
Link copied!