ঢাকা: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জেতার দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘোচানোর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিনে অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ বোলিংয়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক এক জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথম তিন দিন ম্যাচের গতিপথ নিয়ে নানা সমীকরণ থাকলেও চতুর্থ দিনে এসে অস্ট্রেলিয়াকে রীতিমতো কোণঠাসা করে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
চতুর্থ দিনের সকালের সেশন শুরু হতেই বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসান মিরাজ। দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই তার ঘূর্ণিজাদুতে খাদের কিনারায় চলে যায় অজিরা। ইনিংসের ৬০তম ওভারে সেট ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে দিনের প্রথম ব্রেকথ্রু আনেন তিনি। মিরাজের বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৭২ বলে ৩০ রান করেন ক্যারি।
এরপর ৬৭তম ওভারে বল করতে এসে এক ‘অফ স্পিন মাস্টারক্লাস’ ডেলিভারিতে বেউ ওয়েবস্টারকে বোকা বানান মিরাজ। বল বাঁক নেবে ভেবে ফ্রন্টফুটে খেলতে গিয়ে সোজা আসা বলে বোল্ড হয়ে মাত্র ৫ রানে সাজঘরে ফেরেন ওয়েবস্টার। পানি পানের বিরতির আগে মিরাজের এই আগুনঝরা স্পেলে স্বাগতিকদের মিডল অর্ডার ধসে পড়ে।
সপ্তম উইকেটে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও এক প্রান্ত আগলে রাখা ক্যামেরন গ্রিন। ৭১তম ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দলীয় রান ২০০ স্পর্শ করলেও তারা তখনও বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের লিড থেকে ২৮ রানে পিছিয়ে ছিল। টেস্টে তিনটি ফিফটি থাকা কামিন্সকে দ্রুত ফেরানোই ছিল বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। ৭৪তম ওভারের শেষ বলে সেই সাফল্যও এনে দেন মিরাজ। তার ঝুলিয়ে দেওয়া বলে শর্ট লেগে দারুণ এক ক্যাচ লুফে নেন সাদমান ইসলাম। ফলে ৮ রানে বিদায় নেন কামিন্স। এটি ইনিংসে মিরাজের চতুর্থ এবং নতুন দিনের তৃতীয় উইকেট।
কামিন্স ফিরে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার টেল-এন্ডারদের প্রতিরোধ পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ৮১ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২২৯ রান। তখন ক্রিজে ৭৬ রানে অপরাজিত থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন এবং তার সঙ্গী হিসেবে নতুন ব্যাটার হিসেবে মাঠে নামেন মিচেল স্টার্ক।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজে নিজেদের প্রমাণের লড়াইয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অজিদের অল্প রানে বেঁধে ফেলার পর ব্যাটিংয়ে বড় লিড পায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজের এই ধারাবাহিক উইকেট শিকার বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক জয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে।
এসআই







































