মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

চার মাসের মধ্যে মন্ত্রীসভায় বড় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৯ মে ২০১৯, রবিবার ০৬:৩১ পিএম

চার মাসের মধ্যে মন্ত্রীসভায় বড় পরিবর্তন

ঢাকা : দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের কয়েকজনের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। গঠিত হচ্ছে ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা। এই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও ৩ জন উপমন্ত্রী থাকছেন।

রোববার (১৯ মে) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম এ তথ্য জানান।

নতুন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রী নিজের কাছে রেখেছেন।

মন্ত্রী হচ্ছেন যারা

১. আ ক ম মোজাম্মেল হক- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
২. ওবায়দুল কাদের- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী
৩. ড. আবদুর রাজ্জাক- কৃষিমন্ত্রী
৪. আসাদুজ্জামান খান কামাল- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৫. ড. হাছান মাহমুদ- তথ্যমন্ত্রী
৬. আনিসুল হক- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী
৭. আ হ ম মুস্তফা কামাল- অর্থমন্ত্রী
৮. তাজুল ইসলাম- এলজিআরডি
৯. ডা. দীপু মনি- শিক্ষামন্ত্রী
১০. ড. আবদুল মোমেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী
১১. আবদুল মান্নান- পরিকল্পনামন্ত্রী
১২. নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন- শিল্পমন্ত্রী
১৩. গোলাম দস্তগীর গাজী- বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী
১৪. জাহেদ মালেক স্বপন- স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী
১৫. সাধনচন্দ্র মজুমদার- খাদ্যমন্ত্রী
১৬. টিপু মুনশি- বাণিজ্যমন্ত্রী
১৭. নুরুজ্জামান আহমেদ- সমাজকল্যাণমন্ত্রী
১৮ শ ম রেজাউল করিম- গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী
১৯. শাহাব উদ্দিন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী
২০. বীর বাহাদুর উশৈসিং- পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী
২১. সাইফুজ্জামান চৌধুরী- ভূমিমন্ত্রী
২২. নুরুল ইসলাম সুজন- রেলপথমন্ত্রী
২৩. স্থপতি ইয়াফেস ওসমান- বিজ্ঞান ও প্রযক্তিমন্ত্রী
২৪. মোস্তাফা জব্বার- ডাক ও টেলিযোগাযোগ তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

প্রতিমন্ত্রী

১. কামাল আহমেদ মজুমদার- শিল্প
২. ইমরান আহমদ- প্রবাসীকল্যাণ
৩. জাহিদ আহসান রাসেল- যুব ও ক্রীড়া
৪. নসরুল হামিদ- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ
৫. আশরাফ আলী খান খসরু- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ
৬. বেগম মন্নুজান সুফিয়ান- শ্রম ও কর্মসংস্থান
৭. খালিদ মাহমুদ চৌধুরী- নৌপরিবহন
৮. জাকির হোসেন- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
৯. শাহরিয়ার আলম- পররাষ্ট্র
১০. জুনায়েদ আহমেদ পলক- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ
১১. ফরহাদ হোসেন- জনপ্রশাসন
১২. স্বপন ভট্টাচার্য- এলজিআরডি
১৩. জাহিদ ফারুক- পানিসম্পদ
১৪. মুরাদ হাসান- স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ
১৫. শরিফ আহমেদ- সমাজকল্যাণ
১৬. কে এম খালিদ- সংস্কৃতিবিষয়ক
১৭. ডা. এনামুর রহমান- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ
১৮. মাহবুব আলী- বেসামরিক বিমান ও পর্যটন
১৯. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ- ধর্মবিষয়ক

উপমন্ত্রী

১. বেগম হাবিবুন নাহার- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পবির্তন
২. এনামুল হক শামীম- পানিসম্পদ
৩. মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল- শিক্ষা

রোববার (১৯ মে) বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

বঙ্গভবনে সোমবার (২০ মে) বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে রোববার দুপুর থেকে শপথ নেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা ফোন করেন সংশ্লিষ্টদের। গণভবন থেকে বেলা দেড়টার দিকে তালিকা নিয়ে সচিবালয়ে ফেরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

নতুন মন্ত্রিসভায় আকার হলো ৪৬ সদস্যবিশিষ্ট। এর মধ্যে মন্ত্রী ২৪ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৯ জন ও উপমন্ত্রী তিনজন।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জোটগতভাবে তারা পেয়েছে ২৮৮ আসন। অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের জোট পেয়েছে মাত্র সাতটি আসন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এমপিরা ছাড়া গত বৃহস্পতিবার নবনির্বাচিত এমপিরা শপথ নেন। জয়ের পর টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট, টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন শেখ হাসিনা।

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্ধারণ করবেন, সেভাবে অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।

তবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সংখ্যার কমপক্ষে দশভাগের ৯ ভাগ সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ পাবেন। সর্বোচ্চ দশভাগের এক ভাগ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মন্ত্রিসভার সদস্য মনোনীত (টেকনোক্র্যাট) হতে পারবেন বলে সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়াবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দফতর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে তারাই হবে দেশের নতুন সরকার। শপথ নেয়া পর্যন্ত আগের মন্ত্রিসভা বহাল থাকবে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে আগের মন্ত্রিসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপির বর্জনের মধ্যেই দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন হয়। ১২ জানুয়ারি গঠিত হয় নতুন মন্ত্রিসভা। তখন শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে ৪৮ সদস্য বিশিষ্ট নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। ওই সরকারে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী এবং দু’জন উপমন্ত্রী ছিলেন। পরে কয়েক দফা মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হলে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়ায় ৫২ সদস্যের। তবে নির্বাচনের আগে টেকনোক্র্যাট চারমন্ত্রীকে বাদ দেয়া হয়।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue