ছবি : প্রতিনিধি
শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অপবাদ দিয়ে এক মধ্যবয়স্ক নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক সাবেক বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দুই লাখ নগদ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার খোয়া যায় ছয়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার বাড়ী থেকে। এ ঘটনায় অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার ছয়গাঁও এলাকার আবুল শেখের স্ত্রী ও ছয় সন্তানের জননী নারগিস বেগমকে ধরে নিয়ে যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা এবং তার সহযোগীরা। পরে তাকে দুই হাত ধরে আটকে রেখে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। নির্যাতনের সময় বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আকুতি জানান নারগিস বেগম। একপর্যায়ে মারধরের ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও থামেনি নির্যাতন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক নারীর দুই হাত ধরে রেখেছেন দুই ব্যক্তি। আরেক ব্যক্তিকে দেখা যায় লাঠি দিয়ে ওই নারীকে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। এসময় তিনি আত্মচিৎকার করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আবার তুলে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগী নারগিস বেগম বলেন, আমি কোনো চুরি করিনি। তারা আমাকে চোরের মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। তারা আমার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর করেছে। আমি তাদের বিচার চাই।
ভুক্তভোগীর ছেলে গোলাম রাব্বি বলেন, আমাদের পরিবারে কোনো অভাব নেই। আমার এক ভাই প্রবাসে থাকেন। আমার মা কোনো চুরি করেনি। তারপরও বিএনপি নেতা আনোয়ার মোল্লা ও তার লোকজন চুরির অপবাদ দিয়ে আমার মাকে অনেক মারধর করেছে। আমার মা একজন অসুস্থ মানুষ। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমার মা যদি চুরি করতো তারা আইনের আশ্রয় নিতো, কিন্তু কোন প্রমাণ ছাড়া আমার মাকে কেন এভাবে মারা হলো আমি তাদের বিচার চাই।
ভুক্তভোগীর মেয়ে মেহেরুন বলেন, যেভাবে আমার মাকে মারা হয়েছে তা দেখার মতো নয়। কয়েকজন মিলে আমার মাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে। আমার মায়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো উচিত ছিলো। কিন্তু তারা আমার নির্দোষ মাকে মেরেছে। আমি এদের বিচার চাই।
এদিকে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মোল্লার বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ভিডিওটি দেখেছি। এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কোনো ব্যক্তিকে তদন্ত ছাড়াই এভাবে নির্যাতন করার সুযোগ নেই। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, আমরা খবর পেয়ে আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়ে তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।
পিএস