ছবি : প্রতিনিধি
খুলনা: সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর এবং দক্ষিণ উপকূলের ঐতিহ্যবাহী হিরণ পয়েন্টের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ শেষে মোংলা বন্দর এলাকা সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রিয় নেতাকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজেদের মাঝে পেয়ে বাগেরহাট, রামপাল, মোংলা ও খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে নেমে এসেছে উৎসবের আমেজ ও চরম উচ্ছ্বাস।
আচমকা গাড়ি থেকে নেমে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে কুশল বিনিময় সফরকালে মোংলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এক আবেগঘন ও স্মরণীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সফরসঙ্গীদের গাড়িবহর নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বহর থামিয়ে নিজের গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। নিরাপত্তা বলয়ের তোয়াক্কা না করে তিনি উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মুখোমুখি হন।
প্রধানমন্ত্রী নিজে এগিয়ে গিয়ে উৎসুক নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের সাথে হাত মেলান, কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। গণমানুষের নেতাকে একদম কাছে পেয়ে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা আনন্দ ও উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে।
মোংলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, বলেন, আমাদের প্রিয় নেতার মোংলা আগমন এবং বন্দরের উন্নয়ন পরিস্থিতি স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল। এতে মোংলা বন্দর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।
রামপাল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তুহিন বলেন, আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও স্থানীয়দের মাঝে নতুন দিগন্তের আশা দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের বিএনপির জেলা, উপজেলা ও নগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে অভিমত প্রকাশ করেন। তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই নিবিড় ও সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আধুনিক বাংলাদেশের উন্নয়নের কারিগর ও রূপকার হিসেবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে এক সময়ের অবহেলিত রামপাল-মোংলা অঞ্চলসহ পুরো দেশ আজ সমৃদ্ধির নতুন ধারায় এগিয়ে যাবে।
অন্যদের মতো তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে তাদের দাবি ও আশার কথা উঠে এসেছে। বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নিয়ামুল কবির রাহুল আবেগ প্রকাশ করে বলেন, বাগেরহাটের সাধারণ জনগণের পক্ষে আমাদের মূল দাবি—এখানে দ্রুত একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ করা হোক। আমরা বিশ্বাস করি, শুধু বাগেরহাট নয়, দেশের সর্বস্তরের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমাদের প্রিয় নেতা সর্বদাই অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকেই এই হাই-প্রোফাইল ঝটিকা পরিদর্শনকে ঘিরে ছিল ব্যাপক ব্যস্ততা।
সকাল ৯টা (ঢাকা থেকে যাত্রা): প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে সড়কপথে তেজগাঁও বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। সকাল ৯টায় সেখান থেকে হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরবনের উদ্দেশে রওনা হন।
সকাল ১০টা (আকাশপথে পর্যবেক্ষণ): আকাশ থেকে দেশের প্রাকৃতিক রক্ষা কবচ সুন্দরবন এবং উপকূলীয় হিরণ পয়েন্টের সার্বিক প্রকৃতি ও পরিবেশগত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
সকাল সাড়ে ১০টা (দাকোপ আগমন): খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও শীর্ষ দলীয় নেতৃবৃন্দ তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
দুপুর পৌনে ১টায় (মোংলা জেটিতে পৌঁছানো) দাকোপের নলিয়ান লঞ্চঘাট থেকে জলপথে বাগেরহাটের মোংলার উদ্দেশে রওনা হন এবং নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মোংলা জেটিতে পৌঁছান।
দুপুর দেড়টায় টা (মধ্যাহ্নবিরতি ও গুরুত্বপূর্ণ সভা): বানৌজা মোংলার ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে মধ্যাহ্নবিরতি শেষে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে ৫ টায় (বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন): মোংলা বন্দরের জেটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং পরে প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের সার্বিক কার্যক্রম ও প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন।
সারাদিনের নানা দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচি সম্পন্ন করে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
জোরদার নিরাপত্তাবেষ্টনী ও উৎসবমুখর পরিবেশ প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন, দাকোপ ও মোংলা বন্দর এলাকা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তিন স্তরের অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়। তবে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও সর্বস্তরের মানুষ রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এক নতুন উদ্দীপনা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নের আশাবাদ ছড়িয়ে দিয়েছে।
পিএস