ফের সঞ্চয়পত্রে বাড়ছে সরকারের ঋণ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
ফের সঞ্চয়পত্রে বাড়ছে সরকারের ঋণ

ফাইল ছবি

ঢাকা: টানা তিন অর্থবছর সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ কমার পর এবার বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা পেয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে গত ডিসেম্বর শেষে সরকারের এ বাবদ ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। এদিকে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেজারি বিল, বন্ডে সুদহার অনেক কমেছে। সে তুলনায় সঞ্চয়পত্রে কম কমেছে। যে কারণে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা সঞ্চয়পত্রে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগ কিছুটা বাড়ছে। সঞ্চয়পত্রের মোট বিক্রি থেকে সুদ ও আসল পরিশোধের পর নিট বিক্রির হিসাব হয়। টানা তিন অর্থবছর নিট বিক্রি কমায় ঋণ স্থিতি কমছিল। ২০২২ সালের জুন শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ স্থিতি ছিল তিন লাখ ৬৪ হাজার ১০ কোটি টাকা। সেখান থেকে কমে গত জুন শেষে তিন লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকায় নেমেছিল। 

সঞ্চয়পত্রে গত অর্থবছর সরকারের ঋণ কমেছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছর কমে ২১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কমেছিল তিন হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছর বেড়েছিল ১৯ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকের তুলনায় উচ্চ সুদসহ বিভিন্ন কারণে একটি সময় বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হতো। সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ কমাতে তখন কয়েক দফায় সুদহার কমানো হয়। ট্রেজারি বিল, বন্ডের সুদ অনেক বাড়লেও সঞ্চয়পত্রে কম ছিল। সব মিলিয়ে গত তিন অর্থবছর ধরে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছে। এ সময়ে ট্রেজারি বিল, বন্ডে ব্যক্তি বিনিয়োগ কয়েকগুণ বেড়েছে। গত কয়েক মাস ধরে বিল, বন্ডের সুদহার কমে ১০ শতাংশের ঘরে নেমেছে। গত বছরের এ সময়ে যা ১২ থেকে ১৩ শতাংশের কাছাকাছি ছিল।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছরই সরকার অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণের একটি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে। চলতি অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকায় নামানো হয়। এবারে ব্যাংক থেকে সরকার ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। গত ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকার নিয়েছে ৫৯ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছর ৯৯ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকার নিয়েছিল ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা।

দেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচারের প্রভাব ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কার্যক্রম কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা তলানিতে নেমেছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। দুই যুগের বেশি সময়ের মধ্যে যা সর্বনিম্ন। মূলত সরকার পতনের পর থেকে অর্থ পাচার নিয়ে কড়াকড়ি এবং মূল্যস্ফীতি কমানোর ওপর জোর দিয়েছে সরকার। গত ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর বাড়ছে না: পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মুনাফার ওপর অনেক আগ থেকে ৫ শতাংশে উৎসে কর কাটা হয়। তবে হঠাৎ করে গত জানুয়ারিতে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে মুনাফা দেয় সরকার। এতে করে সঞ্চয়কারীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এ অবস্থায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত মঙ্গলবার জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকছে। কোনো ব্যক্তি যদি সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করে তাহলে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে ৫ শতাংশ।

এএইচ/পিএস

Link copied!