আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় নিম্নগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত কয়েক দিনে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ১.৩ শতাংশ থেকে ২ শতাংশের বেশি পর্যন্ত কমে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার (৪ মে) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৫২৩ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন ফিউচার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে ৪,৫৩৩ ডলারে স্থির হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার জটিল প্রভাবেই এ পতন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর ফলে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে, যা স্বর্ণের দামের ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে। কারণ ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আরও বেড়েছে। ফলে বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে পারে। উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো অলাভজনক সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়।
কমোডিটি বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণ থেকে সরে এসে অন্যান্য সম্পদে ঝুঁকতে পারেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণ আবারও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ফিরে আসতে পারে।
অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারেও একই ধারা দেখা গেছে। রুপার দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছে, আর প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও যথাক্রমে প্রায় ১.৭ এবং ২.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্ববাজারে এই দরপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে। বাজুস সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে স্থানীয় বাজারেও তার প্রতিফলন ঘটে। ফলে শিগগিরই দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সবশেষ গত ৩০ এপ্রিল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ৪২ হাজার টাকার বেশি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এ দামে সমন্বয় আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এম
আপনার মতামত লিখুন :