হুতিদের হামলার ভয়ে বাঙ্কারে সৌদি যুবরাজ 

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
হুতিদের হামলার ভয়ে বাঙ্কারে সৌদি যুবরাজ 

ফাইল ছবি

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা উদ্বেগ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজের সুরক্ষায় বাঙ্কার-সুবিধাসম্পন্ন অত্যন্ত সুরক্ষিত প্রাসাদে আশ্রয় নিয়েছেন সৌদি যুবরাজ ও প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ বিন সালমান।

সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হুতিদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং সামনে নতুন করে বড় ধরনের আক্রমণের পূর্বাভাসে সৌদি রাজপরিবার ও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজধানী রিয়াদের মতো কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ৪১ বছর বয়সী যুবরাজের গতিবিধি ও অবস্থান নিয়ে সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দৈনন্দিন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাবেষ্টনী বহুগুণ শক্তিশালী করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে শেষবারের মতো জনসমক্ষে রক্ত দিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এরপর থেকে দেশের আর কোনো প্রকাশ্য কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যায়নি।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে বহুবছর ধরে চলমান সংঘাতের মধ্যে সপ্তাহজুড়ে রিয়াদসহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক হামলার ঘটনায় পুরো সৌদি আরবের বিমান যোগাযোগ ও সার্বিক আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নজিরবিহীন চাপে পড়েছে। বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বারবার চালানো হামলা যাত্রীদের নিরাপত্তা, নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথের স্থিতিশীলতা মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।

সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের এক হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত এবং অন্তত ৩০৯ জন আহত হন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন রবিবার বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে আবারও হামলা চালায় হুতিরা। এতে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং আরও ১১ জন গুরুতর আহত হন। কেবল রিয়াদই নয়, এর পাশাপাশি দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আভা, জিজান ও নাজরান বিমানবন্দরগুলোকেও হুতিরা তাদের মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

হুতিদের আক্রমণ এখন আর কেবল বিমানবন্দরগুলোতে সীমাবদ্ধ নেই। রিয়াদের প্রাণকেন্দ্র ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতেও একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হচ্ছে। শহরের আর্থিক কেন্দ্রগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক স্কুলগুলোর শিক্ষার্থী এবং রিয়াদে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের ভবন ছেড়ে দ্রুত বাঙ্কার বা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার কড়া নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বিভাগ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রিয়াদের আকাশে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সাহায্যে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হলেও তার জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন ও সংলগ্ন চিকিৎসাকেন্দ্রের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বেসামরিক অবকাঠামোর সার্বিক নিরাপত্তা বিধান নিয়ে সৌদি প্রশাসনের দুশ্চিন্তা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও উল্লেখ করেছে, ক্রমাগত আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। সীমিত হয়ে আসা এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ায় ইন্টারসেপ্টরগুলোকে এখন শুধু রাজপ্রাসাদ ও প্রধান প্রধান জ্বালানি অবকাঠামোর সুরক্ষায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আকাশসীমার সার্বিক নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও মিসরের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্রয়ের জোর তৎপরতাও চালাচ্ছে দেশটি।

এসএইচ 

Link copied!