প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে সই হতে পারে একাধিক সমঝোতা স্মারক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে সই হতে পারে একাধিক সমঝোতা স্মারক

ফাইল ছবি

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফর চলবে। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে চারটিরও বেশি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অর্জন ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরে একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করা হবে।

সফরকে সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে প্রায় আটটি দলিল চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত কতটি দলিল সই হবে, তা আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। প্রস্তাবিত এসব সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, সফরকালে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যৌথ বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফল এবং বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার অগ্রাধিকারগুলো স্থান পাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সাথে জাপানের শিল্প-অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার সংযোগ ঘটাবে। এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বে নতুন গতি সঞ্চারের বড় সুযোগ। উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবিকার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত খাতগুলোতে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে।

তিনি আরও পরামর্শ দেন, কৃষি ও মৎস্য খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও প্রক্রিয়াজাতকরণে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি জাপানের মাঝারি আকারের কোম্পানি ও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অংশীদারত্ব উৎসাহিত করা দরকার। সেই সঙ্গে সফর শেষে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা করার ওপরও জোর দেন তিনি।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সাথে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই নেতা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

সফরকালে তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে বৈঠকে অংশ নিয়ে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া জাইকার প্রেসিডেন্ট, জেবিআইসির গভর্নর, জেট্রোর প্রেসিডেন্ট এবং জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। সফরসূচিতে চিবা অঞ্চলের এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ার টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে জাপানে পৌঁছাবে।

সমঝোতা স্মারকের পাশাপাশি এ সফরে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার জোরদার করার বিষয়ে কথা হবে। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মাতারবাড়ী অবকাঠামো ও এমআরটি মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও সহজ শর্তে অর্থায়নের বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পাবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল রূপান্তর, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে উভয় দেশ আলোচনা করবে।

এসএইচ 

Link copied!