অবৈধ উপার্জনকারী নামাজি ব্যক্তিও কি জান্নাতে যাবে?

  • সোনালী ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
অবৈধ উপার্জনকারী নামাজি ব্যক্তিও কি জান্নাতে যাবে?

ফাইল ছবি

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন অনেক অভিজ্ঞতা হয়, যা গভীর ভাবনায় ফেলে দেয়। ক্যাম্পাস বা কর্মক্ষেত্রে এমন অনেক বন্ধু থাকে, যারা নিয়মিত নামাজ হয়তো পড়ে না বা দ্বীনের অনুশাসন সেভাবে মেনে চলে না; তবে আচরণ ও নৈতিকতায় তারা অসাধারণ। মানুষ হিসেবে তারা সৎ, সত্যবাদী ও পরোপকারী।

এমন কোনো বন্ধু যখন সরাসরি প্রশ্ন করে বসে- ‘তুই এত ধর্ম মানিস, বল তো আমি কি জাহান্নামে যাব?’ তখন এক কঠিন ধর্মসংকটের সৃষ্টি হয়। সত্য রক্ষা ও ভালোবাসা বজায় রেখে কীভাবে তাদের দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া যায়, সম্প্রতি এক আলোচনা অনুষ্ঠানে সেই বিষয়ে প্রজ্ঞাপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ।

কোনো ব্যক্তি দ্বীন পালনে পিছিয়ে থাকলেও তার মধ্যকার সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও পরোপকারের মতো মানবিক গুণগুলোর প্রশংসা করার উদারতা থাকা উচিত। ইসলাম ইনসাফ শেখায়। কোনো মানুষ সব দিক থেকে দ্বীন অনুশীলন না করলেই তার ভালো গুণকে অস্বীকার করা ইসলামের শিক্ষা হতে পারে না।

পবিত্র কুরআনেও আল্লাহ তাআলা অমুসলিমদের আমানতদারির প্রশংসায় ইরশাদ করেছেন— ‘আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও খ্রিস্টান) মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যার কাছে তুমি বিপুল ধন-সম্পদ আমানত রাখলেও সে তা তোমার কাছে অবিকল ফেরত দেবে।’ (সুরা আল-ইমরান: ৭৫)

কাউকে শুধুই ধমক বা জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে দ্বীনের পথে আনা যায় না। বন্ধুকে প্রজ্ঞার সঙ্গে বোঝানো যেতে পারে— আজকের যুগে শুধু বাহ্যিক ইবাদত করার চেয়ে ভালো আচরণের অধিকারী হওয়া ও লেনদেনে সততা বজায় রাখা অনেক বেশি কঠিন, যা তার মধ্যে ইতোমধ্যে বিদ্যমান। ফলে সে যদি সামান্য নামাজ ও খোদাভীতির চর্চা যুক্ত করে, তবে জান্নাতের পথ তার জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়।

শেষ বিচারে কে জান্নাতে যাবে আর কে জাহান্নামে যাবে, তা দুনিয়াতে বসে নিশ্চিত করে বলা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। নিয়মিত ইবাদত করেও কেউ যদি প্রতারণা বা মানুষের হক নষ্টে লিপ্ত থাকে, তবে শুধু নামমাত্র ইবাদত তাকে মুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না।

আবার জীবনের শেষ মুহূর্তে আন্তরিক তওবা করে কোনো মানুষ আল্লাহর প্রিয় বান্দা হয়ে যেতে পারে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো ব্যক্তি দীর্ঘকাল জাহান্নামিদের মতো কাজ করেও জীবনের শেষভাগে জান্নাতিদের আমল করে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে (মুসলিম ২৬৫১)।

ইসলামের মূলনীতি অটুট রেখেও পাপী বা ভিন্নমাবলম্বীদের সঙ্গে সামাজিক সৌহার্দ্য ও সৌজন্য বজায় রাখা জরুরি। সুন্দর আচরণ একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। নিজেদের ইবাদত নিয়ে অহংকার না করে প্রজ্ঞা, বিনয় ও ভালোবাসার মাধ্যমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রেখে সত্যের পথ দেখনোই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।

এসএইচ 

Link copied!