• ঢাকা
  • রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯

ফরিদপুরে গো-খাদ্যের সংকট, দাম বেড়েছে খড়ের


ফরিদপুর প্রতিনিধি ডিসেম্বর ৮, ২০২২, ০১:০৯ পিএম
ফরিদপুরে গো-খাদ্যের সংকট, দাম বেড়েছে খড়ের

ফরিদপুর: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড়ের দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিপাকে পড়েছেন উপজেলার খামারি ও সাধারণ কৃষকেরা। উৎপাদনে খরচ বেড়েছে ফরিদপুর খামারিদের। যাবতীয় খরচ মিটিয়ে আয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। অস্বাভাবিক গরুর খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে গরু বিক্রি করে ফেলছেন অনেক খামারিরা। এছাড়াও দানাদার খাদ্য গাভীকে খাওয়ানোর পর এক কেজি দুধ উৎপাদন করতে যে খরচ তার চেয়ে অর্ধেক দামে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে করে খাদ্যের দাম না কমলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছে  খামারিদের।

বোয়ালমারী উপজেলায় ছোট বড় বেশ কিছু খামার  রয়েছে। এসব খামারিদের গরুকে খড় ও ঘাসের পাশাপাশি গমের ভুসি, খেসারির ভুসি, বুটের ভুসি, বুটের খোসাসহ বিভিন্ন ধরনের দানাদার খাদ্য খাওয়ানো হয়। কিন্তু গত ৩ মাসের ব্যবধানে সকল গো-খাদ্যের দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে গেছে এবং বস্তাপ্রতি বেড়েছে ১৫০-৩০০ টাকা। গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে দুধ উৎপাদন ও পশু মোটাতাজাকরণে ব্যয় বেড়েছে কৃষক ও খামারিদের। এতে করে গবাদি পশুপালনে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

এদিকে খামারিদের কারণে সাধারণ গরু লালন-পালনকারীরা পড়েছেন আরও বিপাকে। স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড়।

জানা গেছে, কুড়া-ভুসির পাশাপাশি ধানের খড় গরুর জন্য উৎকৃষ্ট খাদ্য। কুড়া-ভুসির সঙ্গে খড় কেটে ভিজিয়ে গরুকে খাওয়ানো হয়। গরুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য এই খাদ্যের বিকল্প নেই। তাই খামার অথবা ব্যক্তিগত গরু পালনকারীদের সারা বছরের জন্য খড়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছেই। এখন এক বছরের জন্য খড় কিনে রাখছেন খামারিরা। খড় ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াতে অনেকটা সংকট রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।

গরুর জন্য খড় কিনতে অনেকটাই প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে খামারিসহ সাধারণের। নিজ এলাকার বাইরে থেকেও খড় কিনে আনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গরুর খামারিরা। ফলে পরিবহন খরচও যুক্ত হচ্ছে তাতে।

সূত্র মতে, বোয়ালমারী উপজেলার গত কয়েক বছর ধরে গরুর খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে যুবকদের একটা অংশ খামার প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছেন। কেউ গরুর মোটাতাজাকরণ আবার কেউ দুগ্ধজাত গরুর খামার করছেন। এছাড়া এই এলাকায় ধান চাষ আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তাছাড়া ফলন ভালো না হওয়ায় খড়ের সংকট দেখা দেয়। মূলত খড় ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে, সে তুলনায় বাড়েনি খড়ের পরিমান। আর এতে করেই দাম বাড়ছে হু-হু করে।

গরু পালন করেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, একটি গরুর সারা বছরের শুকনা খাবারের জন্য খড়ের বিকল্প নেই। তিনবেলা নিয়ম করে অন্যান্য খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি খড় দিতে হয়। কুড়া-ভুসি, চাল ফুটানো মিলিয়ে খাওয়ার সঙ্গে খড় কেটে পানির সঙ্গে ভিজিয়ে খাওয়ানো হয়। এছাড়াও তিনবেলা খাওয়ার বাইরে খড় ও কাঁচা ঘাস দিতে হয়। ঘাসের তুলনায় খামারে খড়ের প্রয়োজনীয়তাই বেশি। আর এ কারণেই প্রত্যেক খামার বা সাধারণ গেরস্থদের কমপক্ষে এক বছরের জন্য খড় কিনে রাখতে হয়। এ মৌসুমে কিনে আগামী কোরবানি পর্যন্ত খড়-খাদ্যের যোগান দিতে হয় খামারে। খড়ের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিদের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষও। অনেকে আবার সংকটের কারণে ফরিদপুরসহ অন্যান্য জেলা থেকেও খড় কিনে এনেছেন বলেও তারা জানান।

মো. হাচান নামে এক খামারি জানান, তার খামারে ১০টি গরু আছে। কিছু গরু দুগ্ধ জাতের।  নিজ এলাকায় খড়ের দাম বেশি হওয়ায় অন্য এলাকা থেকে খড় কিনে এনেছেন তিনি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, বিদেশি খাবারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে, দেশে উন্নত জাতের ঘাসের আবাদ বাড়াতে হবে। এতে দেশীয় খাবারেই গবাদিপশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা যাবে।

সোনালীনিউজ/এস/এসআই

Wordbridge School