• ঢাকা
  • শনিবার, ০২ মার্চ, ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

দেশের যেখানে দুধের লিটার ৩০ টাকা


গাইবান্ধা প্রতিনিধি মে ৮, ২০২৩, ০১:০১ পিএম
দেশের যেখানে দুধের লিটার ৩০ টাকা

গাইবান্ধা : সমতলে ৬০ আর বালুচরে ৩০ টাকা লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে। এই দাম কমের কারণে গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের গবাদিপশু পালনকারীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বারো মাস দুঃখ কষ্টে থাকা মানুষগুলো যা-ই উৎপাদন করেন তাই বিক্রি করতে হয় পানির দামে।

চরে বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় এক প্রকার বাধ্য হয়েই ব্যাপারী আর মহাজনদের হাতে তুলে দিতে হয় পানির দামে। এই কষ্টের কথা জানান, বাটিকামারী চরের বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম।

তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীঘেরা গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুজামান বলেন, চরের মানুষ বন্যা, খরা, নদী ভাঙ্গনসহ ভয়াবহ তিন দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে বাস করে বালুচরে। তাদের মূল্যবান সম্পদ বলতে গবাদি পশু পালন ও দুধ বিক্রি। বিভিন্ন দুর্যোগ, মেয়ের বিয়ে এবং বিপদে আপদে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা নির্ভর করে গবাদি পশুর ওপর। এ কারণে তারা মানুষের মতো অতি যত্নে রাখেন গবাদি পশুকে। কিন্তু বর্তমানে চরাঞ্চলে চারণ ভূমি করে এসেছে। গো খাদ্য কিনতে হয় চড়া দামে। কিন্তু দুধ বিক্রি করতে হয় পানির দামে।

গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গাইবান্ধায় সাত উপজেলায় রেজিস্টার্ড ও রেজিস্ট্রি ছাড়াও সাড়ে ১৫ হাজার গো খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। দুধ বিক্রি করে লাভের অংশ ঘরে তুলতে পারছেন না তারা। দিনের পর দিন বাড়ছে দুধের দাম বাড়ালেও- তিস্তা যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ১৬৫টি চরের খামারিরা হতাশ। কেউ কেউ তাদের গো খামার গুটিয়ে নিয়েছেন। সে কারণে দেশি গুরুর দুধ আর পাওয়া যায় না বললেই চলে।

গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের খাতাপত্র মতে, গাইবান্ধায় দুই হাজার ৫২, পলাশবাড়িতে এক হাজার ৬৭২, গোবিন্দগঞ্জে পাঁচ হাজার ২১৮, সাদুল্লাপুর দুই হাজার ৩৫, সুন্দরগঞ্জ দুই হাজার ৬৩৯, সাঘাটায় এক হাজার ২৩৫ ও ফুলছড়ি উপজেলায় ৩২৯টিসহ ১৫ হাজার ১৬৬টি গো খামার রয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা খামার মালিক সমিতির সভাপতি প্রতাপ ঘোষ জানান, আমি কোটি টাকা খরচ করে খামার করেছি। অনেক ইনভেস্ট করেছি। ভালোই চলছিল খামার; কিন্তু গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় মহাবিপাকে পড়েছি। গরু থেকে যে পরিমাণ দুধ আসে তা বিক্রি করে টাকা ওঠে না। লেবার খরচ দিলে লাভের অংশ ঘরে তোলা কষ্টকর।

গাইবান্ধার নানান সমস্যা মোকাবেলা করতে গিয়ে দোকানি, খামারি ও গবাদি পশুপালনকারীদের মধ্যে অনেকেই পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন।

পূর্বপাড়ার খামারি নুরুল ইসলাম জানান, গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। খামারিদেরও কয়েক দফা দুধের দাম বৃদ্ধি করতে হয়েছে কয়েকবার। যত দাম বাড়ছে তাতে দিনে দিনে বিরক্ত হচ্ছে খদ্দেররা।

গাইবান্ধার প্রাণিসম্পদ বিভাগের মতে, চরের এসব খামারের পরিমাণ দুধ অনেক মানুষের চাহিদা মেটায়; কিন্তু বছর বছর বন্যা, খরাসহ নানা দুর্যোগে চরাঞ্চলের চারণ ভূমি নষ্ট হয়ে যায়। সে কারণে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। আর এসব এলাকায় হাট বাজার না থাকায় ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম। তাই তাদের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে হয় স্থানীয় দালাল, ফড়িয়া, ব্যাপারী ও পাইকারদের কাছে।

কুন্দেরপাড়া চরের বাসিন্দা মঞ্জু সরদার বলেন, পাইকাররা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩২ টাকা লিটার দুধ কিনে নেন। আর এই ৩২ টাকার দুধ নদী পার হয়ে সমতলে এলেই বিক্রি হয় ৬০ টাকা লিটারে। খামারিরা ভালো দাম না পেলেও পাইকাররা তাদের খুশি মতো দুধ ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছে।

মোল্লার চরের চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান বলেন, সরকারি হিসাবে গাইবান্ধার চরের প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গবাদি পশু পালন করা হয়। প্রচুর পরিমাণে দুধ উৎপাদনও হয়; কিন্তু ভালো দাম পায় না খামারিরা। চরাঞ্চলে যদি দুধ কেনা-বেচার আলাদা ব্যবস্থা থাকতো তাহলে তারা দুধের ন্যায্য মূল্য পেত।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, গো খাদ্যের দামের প্রভাব পড়েছে দুধের ওপর। ক্রেতাদের চাহিদা থাকলে খামারিরা তাদের ন্যায্য দাম পাবে। তাহলে আর তাদের লোকসান গুনতে হবে না।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Wordbridge School
Link copied!