• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০১ মার্চ, ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

দেড় বছর পর রংপুর চিড়িয়াখানায় ‘রোমিও-জুলিয়েট’


একেএম সুমন, রংপুর ব্যুরো সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৩, ০৭:২৭ পিএম
দেড় বছর পর রংপুর চিড়িয়াখানায় ‘রোমিও-জুলিয়েট’

রংপুর: দেড় বছরেরও বেশি সময় রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানার বাঘের খাঁচা শুন্য থাকার পর একজোড়া বাঘ আনা হয়েছে। রোমিও-জুলিয়েট নামে এই জোড়া বাঘ এসেছে চট্টগ্রাম থেকে।

গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি মাঘের শীত আর বৃষ্টিতে অসুস্থ হয়ে শাওন নামের বয়স্ক রয়েল বেঙ্গল টাইগারটি মারা গেলে শূন্য হয় বাঘের খাঁচাটি। 

বাঘ না থাকার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে বাঘ দেখতে চিড়িয়াখানায় ভিড় করতে দেখা যায় উৎসুক মানুষজনকে।

রংপুর চিড়িয়াখানায় রোমিও-জুলিয়েটকে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি কিউরেটর আম্বার আলী তালুকদার।

বেলা তিনটার কিছু পরে লোহার দুটি খাঁচায় লাল কাপড়ে মোড়ানো রংপুর চিড়িয়াখানার ফটকে আসে। পরে সেখান থেকে নানা আয়োজনে বরণ করা হয় রোমিও-জুলিয়েট নামের বাঘ দুটিকে। সাড়ে তিনটার সময় রংপুর চিড়িয়াখানার বাঘের খাঁচার সামনে কেককাটা হয় রোমিও-জুলিয়েটের শুভাগমন ও জন্মদিন উপলক্ষে। এর পরই বহুদিনের শুন্যখাঁচা পূর্ণ করে দুই বছর বয়সী এ টাইগারজুটি।

চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর আম্বার আলী তালুকদার জানান, গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ১৬ দিন অভুক্ত থেকে মারা যায় চিড়িয়াখানার একমাত্র বাঘিনী ‘শাওন’। ফলে এতদিন বাঘ শূন্য ছিলো রংপুর চিড়িয়াখানা। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করছি একজোড়া বাঘ আনার জন্য। অবশেষে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে বাঘ বহনকারী গাড়িটি এসে পৌঁছেছে। এখন দর্শনার্থী বাড়ছে, সঙ্গে বাঘের খাঁচার সামনে শিশু-কিশোররা বেশি ভিড় করছে।

রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার আসার খবরে অন্যান্য দিনের তুলনায় দর্শনার্থী ছিলো চোখে পড়ার মত। আগের স্বাভাবিক দিনের তুলনায় জনসমাগম হয়েছিলো অনেক। চিড়িয়াখানার পক্ষ থেকেও রোমিও-জুলিয়েট আসার খবরে গেট ছিলো উন্মুক্ত। দর্শনার্থীদের কাটতে হয়নি কোন টিকিট।

চিড়িয়াখানায় বাঘ আনার খবরে দেখতে আসা দর্শনার্থী মুকুল-ঋতু দম্পতির সাথে কথা হলে তারা জানায়, শিশুদের আমাদের জাতীয় পশুর সাথে পরিচিত করানোর জন্যই চিড়িয়াখানায় আসা। কিন্তু এরআগে এসে যখন শুনেছি এখানে কোন বাঘ নেই খুব খারাপ লেগেছে। বাঘ আনা হয়েছে শুনে দেখতে এসেছি ছেলেকে নিয়ে। তাকে দেখালাম পরিচয় করিয়ে দিলাম বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সাথে।

জাতীয় পশুকে দেখতে আসা ৮বছরের শিশু দর্শনার্থী জানায়, আমি স্কুলের বইয়ে বেঙ্গল টাইগার দেখেছি সামনাসামনি দেখে ভালো লাগছে অনেক। আগে আমি বাঘ মামা দেখিনি। আমার স্কুলের বন্ধুদের গিয়ে আমি বলবো তারাও যেন এসে দেখে যায়।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি এই চিড়িয়াখানায় একটি মাত্র বাঘিনী ছিল। ২০০৩ সালের ৩০ জুন শাওন নামে এই বাঘিনীর জন্ম হয়েছিল ঢাকার মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়। সে হিসাবে মৃত্যুর আগে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ১৮ বছর ৭ মাস। ২০১০ সাল থেকে রংপুর চিড়িয়াখানায় তাকে সঙ্গীহীনভাবে খাঁচাবন্দী রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে সুস্থ-সবলই দেখা গেছে। মৃত্যুর আগে কোনো রোগে আক্রান্ত ছিল না। বার্ধক্যের কারণে শাওনের মৃত্যু হয়েছিল। বাঘ সাধারণত ১৫ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত বাঁচে।

এদিকে নতুন বাঘ জোড়ার পরিচর্চা, খাদ্য সরবরাহসহ খাঁচা সংস্কার করেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বড়োতে শুরু হয়েছে প্রচার-প্রচারণা। বাঘের খাদ্য সরবরাহকারী রমজান আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে খাঁচাটি শূন্য ছিল। আজ এক জোড়া বাঘে পূর্ণতা পেল। আমরা ভীষণ আনন্দিত। বাঘ দুটির জন্য মাংস সরবরাহসহ অন্যান্য সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের দিক থেকে বাঘের পরিচর্যায় কোনো ঘাটতি থাকবে না।

প্রসঙ্গত, দেশে দুটি সরকারি চিড়িয়াখানার মধ্যে রংপুরে একটি। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে রংপুর নগরীর হনুমানতলা এলাকায় ১৯৮৯ সালে রংপুর চিড়িয়াখানাটি গড়ে ওঠে। এটি দর্শনার্থীদের জন্য ১৯৯২ সালে খুলে দেওয়া হয়। প্রায় ২২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই চিড়িয়াখানাটিতে ৩৩ প্রজাতির ২৬০টি প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে সিংহ, বাঘ, জলহস্তী, হরিণ, অজগর সাপ, ইমু পাখি, উটপাখি, বানর, কেশওয়ারি, গাধা, ঘোড়া, ভাল্লুক উল্লেখযোগ্য।

আইএ

Wordbridge School
Link copied!