• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১

পঁচা বর্জ্যের দুর্গন্ধে ক্লাস না করেই চলে গেল শিক্ষার্থীরা 


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২৪, ০৪:৩৩ পিএম
পঁচা বর্জ্যের দুর্গন্ধে ক্লাস না করেই চলে গেল শিক্ষার্থীরা 

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ইটেরপুল এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের পুকুর ভরাট করতে পৌর বাসিন্দাদের পঁচা বর্জ্য এনে ফেলা হয়। এ বর্জ্য থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়ায় চারপাশে। এতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন পাশেই অবস্থিত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা, ব্যবসায়ী ও পথচারী। 

বাধ্য হয়ে বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বর্জ্য ফেলার প্রতিবাদে ঘটনাস্থলের বিপরীত পাশে অবস্থিত দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে পড়ে। একপর্যায়ে দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পেতে ক্লাস না করেই তারা বাড়ি চলে যায়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে একজন শিক্ষার্থীকেও দেখা যায়নি। তবে শিক্ষকরা তাদের কার্যালয়ে বসে ছিলেন। আর স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্জ্যগুলো অপসারণ করতে হবে। এতে তারা জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। 

অন্যদিকে ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দক্ষিণে পৌরসভার নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশন রয়েছে। সেখানে বর্জ্য না ফেলে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ময়লা ফেলায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের এমন অবহেলায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, স্কুল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আপাতত আর সেখানে ময়লা ফেলা হবে না। 

পৌরসভার ইটের পুল এলাকার বাসিন্দা কামরুল হাসান, মো. রনি ও তুহিন হোসেন বলন, লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ইটেরপুল এলাকাটি জনগুরুত্বপূর্ণ। এখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০-১৫টি দোকানের সমন্বয়ে একটি বাজার ও পাশে অনেকগুলো বসতঘর রয়েছে। রাস্তার উত্তরপূর্ব পাশে সড়ক বিভাগের একটি পুকুর রয়েছে। পুকুরটি ভরাটের উদ্দেশ্যেই পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ময়লা এনে এখানে ফেলা হচ্ছে। এসব বর্জ্যের দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। যেকোনো সময় মানুষজন অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। ময়লাগুলো এখান থেকে সরিয়ে নিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে। রাস্তা অবরুদ্ধ করে রেখেছে। পরে দুর্গন্ধে টিকতে না পেরে তারা ক্লাস না করেই বাড়িতে চলে যায়। 

দিদারুল ইসলাম নামে এক যুবক জানান, বাতাসে এতো দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যা সহ্য করার মতো নয়। এ গন্ধে থাকা অসম্ভব। 

পুকুর উত্তর পাড়ের হাসান মিস্ত্রি বাড়ির বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, বালু বা মাটি না দিয়ে পঁচা আবর্জনা এনে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। বুঝে আসে না, ময়লা দিয়ে কেন পুকুরটি ভরাট করতে হবে। 

একই বাড়ির বাসিন্দা নার্গিস আক্তার বলেন, এ বর্জ্যে পোকামাকড় হচ্ছে। মশা-মাছির উৎপাত বেড়ে গেছে। দুর্গন্ধে শিশুদেরকে নিয়ে থাকতে পারি না। সামনে রমজান মাস। তখন আরও কষ্ট হবে। পৌর কর্তৃপক্ষ যাতে পুকুরটি ময়লা দিয়ে ভরাট না করে। 

সড়কের দক্ষিণ পাশে থাকা চা দোকানদার নুরুল আমিন ও মাছ ব্যবসায়ী আবদুর রহিম জানায়, ময়লার দুর্গন্ধে দোকানে বসা যাচ্ছে না। কাস্টমাররা দোকানে আসতে পারে না। তাই দোকানের বেচাবিক্রিও কমে গেছে। 

ক্যামেরায় কথা না বললেও শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়ে দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর দারোগা বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝর্ণা রায় বর্মন বলেন, দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য সব শিক্ষার্থী রাস্তায় গিয়ে ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিষয়টি আমি মোবাইল ফোনে মেয়রকে জানাই। তিনি বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করার অনুরোধ করেছেন। এছাড়া ময়লাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। দুর্গন্ধে টিকতে না পেরে তারা নিজেরাই ক্লাস না করে চলে গেছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। পুকুরটি সড়ক বিভাগের। তারা যদি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে জানায় তাহলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় আমরা কাজ করতে পারব। আর ঘটনাটিতে মেয়রই সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে সড়কের বাঁকটি ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কটি সোজাকরণের জন্য পুকুরটি ভরাট প্রয়োজন। সম্প্রতি মাসিক সমন্বয়সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। তখন এমপি-ডিসি ও মেয়রসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ছিলেন। ময়লা দিয়ে ভরাট করা হবে তা বলা হয়নি। মাটি অথবা বালিু দিয়ে ভরাট করতে ব্হলা হয়েছে। বিষয়টি আমি দেখব। 

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বিদ্যালয় চলাকালীন ওই স্থানে আপাতত ময়লা ফেলা হবে না। 

জেইউবি/এসআই

Wordbridge School
Link copied!