• ঢাকা
  • সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই ঈশ্বরদীর সরিষা চাষীদের 


পাবনা প্রতিনিধি মার্চ ১, ২০২৪, ০৯:২৭ পিএম
বাম্পার ফলনেও হাসি নেই ঈশ্বরদীর সরিষা চাষীদের 

পাবনা: এবার সরিষার বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যদাম নিয়ে হতাশ পাবনার ঈশ্বরদী চাষীরা। তাদের অভিযোগ, প্রতিবছর সার ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম বাড়লেও তুলনামূলকভাবে বাড়ে না সরিষার দাম। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে সরিষার বাম্পার ফলন হলেও স্থানীয় বাজারের দাম নিয়ে হতাশ কৃষকেরা।

সরেজমিনে উপজেলার মুলাডুলি, দাশুড়িয়া, সলিমপুর, সাহাপুর, পাকশী, সাড়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ঘুরে   দেখা গেছে, বেশিরভাগ সরিষা চাষিই মাঠ থেকে সরিষা কেটে এনে মাড়াই করে এখন বাড়িতে শুকাচ্ছেন।
  
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। তারা জানান, বাজারে আমদানিকৃত ভোজ্য তেলের আমদানি ও বাজারদর ঠিক রাখতে কৃত্রিম এ সংকট তৈরি করে সরিষার কৃষকদের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহ হারবেন।

গত দুই বছর সরিষার ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা সরিষার চাষে ব্যাপক আগ্রহী হয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা আবাদ করেছে কৃষকরা। এ বছর ঈশ্বরদীতে এক হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।

এবার ৩ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছেন উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের কৃষক আবেদ আলী। সব জমিতেই ফলন হয়েছে ভালো। তবে যে লাভের আশা তিনি করেছিলেন তা পূরণ না হওয়ার শঙ্কায় কাটছে তার দিন। একই এলাকার কৃষক আব্দুল খালেক ও মতিয়ার রহমান। 

তাদের জমিতে এবার বারি- ১৪,  বারি-১৬,  বারি-১৮, বিনা -৯ বিনা-১১  ও টরি -৭ উচ্চ ফলনশীল  জাতের সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। তবে সরিষার ন্যায্যদাম না পেয়ে হতাশ তারাও।

তাদের অভিযোগ প্রতিবছর বাড়ছে কৃষি উপকরণের দাম। সেই সঙ্গে বেড়েছে উৎপাদন খরচও। কিন্তু সে অনুযায়ী মূল্য পায় না। তারা আরো জানায়, বোরো ধানের খরচ পুষিয়ে নিতে প্রতিবছর এই আবাদ করে থাকি। এই আবাদটি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তবে আমরা প্রকৃত দামে সরিষা বিক্রি করতে পারছি না। 

বাইরের বড় বড় মহাজনেরা এখনো এলাকায় সরিষা কিনতে আসেননি। এবার প্রতি মণ ২ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ৫ শত টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

উপজেলার আরেক কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকেই আমরা কৃষি কাজের ওপর চলি। প্রতি বছরই বাড়ছে কৃষি উপকরণের দাম। চলতি মৌসুমে আমি মোট ৪ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। সরিষার মণ তিন হাজার টাকা হলে আমরা লাভবান হতাম। দাম না বাড়লে সরিষার চাষ করে পুষিয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে না।

জানা যায়, এবার কৃষকেরা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী দেশীয় জাতের ওপর নির্ভরশীল না থেকে উচ্চফলনশীল জাত ব্যবহার করায় এবং অন্যান্য উপকরণ সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করায় বাম্পার ফলন  হয়েছে। ইতোমধ্যেই জমি থেকে সরিষা তোলা শেষ হয়েছে।

উপজেলার আরামবাডিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আব্দুল আলীম জানান, সরিষা লাভজনক ফসল। আমন ধান কাটার পর ধানের জমিতে সরিষা আবাদ করলে প্রতি বিঘায় চার থেকে ৫ মন সরিষা হয়। এক বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করতে প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ হয়। সরিষার বর্তমান বাজার দাম কম হলেও কৃষকদের লোকসান গুনতে হবেনা।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ জহির রায়হান জানান, তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সরিষার ফলন পাওয়া যায়। আমরা সরিষা চাষের জন্য কৃষকদের যথারীতি উৎসাহ প্রদান এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি।  উপজেলায় সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৪ হাজার কৃষককে উচ্চ ফলনশীল জাতের ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডি এ পি, ও ১০ কেজি এমওপি বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যায় এবার সরিষার আবাদে কোনো প্রকার রোগ বালাই আক্রমণ নেই। ফলে বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা লাভবান হবেন।

উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সরিষার আবাদ হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখায় ভালো ফলন হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে এই মুহূর্তে বাজারে সরিষার ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না এটা সত্যি।

কৃষকদের একটু ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, এই মুহূর্তে সরিষা ভাঙিয়ে ভোজ্য তেল হিসেবে ব্যবহার করা যায়, আর কিছুদিনের মধ্যেই এই সংকট কেটে যাবে। নিজেরাই মজুত করে বাজারে ধীরে ধীরে সরিষা ছাড়লে ন্যায্যদাম পাবেন কৃষকরা।

এআর

Wordbridge School
Link copied!