ফাইল ছবি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি ও জনসভাকে ঘিরে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে উপকারভোগীদের জন্য নির্মিত একটি প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো প্যান্ডেল খুলে ফেলতে হয়। এতে হাজারো উপকারভোগী, অতিথি ও দর্শনার্থীকে দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি ও রোদের মধ্যে অবস্থান করতে হয়। একই সঙ্গে মূল মঞ্চের ছাউনিতে পানি জমে থাকা এবং অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটে।
বুধবার (১৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই ঘটনা ঘটে। ওই মাঠেই দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় ধাপের উদ্বোধন করেন এবং জনসভায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত কয়েকজন উপকারভোগী জানান, সকাল থেকেই তাঁরা মাঠে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় প্যান্ডেলটি ভেঙে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্যান্ডেলটি খুলে ফেলা হলে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন উপস্থিত লোকজন।
উপকারভোগী রিপন মিয়া বলেন, ‘আমরা সকাল থেকেই মাঠে ছিলাম। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। প্যান্ডেল খুলে ফেলার পর সবাই খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। এতে বিশেষ করে বৃদ্ধ ও নারী উপকারভোগীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।’
অবশ্য নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর ১টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৫৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে প্রতীকীভাবে ১০ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।
এ ছাড়া ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত পাঁচজনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেওয়া হয়। ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর পাঁচজনকে জীবনমান উন্নয়নের জন্য ১০ হাজার টাকা করে এককালীন সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাঁচজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা অনুদান হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে এবং দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদান প্রদান করা হয়। এ ছাড়া পাঁচজন চা-শ্রমিকের হাতে টেকসই আবাসন নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে আর্থিক বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের পুরো টিম ঢাকা থেকে এসেছে। তারাই সারাদেশে প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করছে। এখানে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো ব্যয় বা বরাদ্দ ছিল না। সরকারি অর্থের ব্যয় কমিয়ে সংক্ষিপ্ত পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশনা ছিল বলে জানা গেছে। তবুও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দেখেছেন। আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এসব বিষয় আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
এসএইচ







































