• ঢাকা
  • সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০

পুঁজিবাজারে স্মার্ট বাজার ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের উদ্বোধন


নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৪, ০৬:০৪ পিএম
পুঁজিবাজারে স্মার্ট বাজার ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের উদ্বোধন

ছবি প্রতিনিধি

ঢাকা: ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সামনে হাতছানি দিচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ৷ ২০৪১ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের একটি দেশে পরিণত হবে৷ ইতোমধ্যে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে পদার্পণ করেছি৷

সরকারের এই মিশন বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কার্যকর ভূমিকা অনস্বীকার্য৷ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ দর্শনের সাথে সঙ্গতি রেখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের সিকিউরিটিজ আইনের বিভিন্ন কমপ্লায়েন্সের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত অনলাইন ডেটা সংগ্রহ, যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত জমা, মূল্যসংবেদনশীল তথ্য, আর্থিক হিসাব সরাসরি প্রদানের জন্য একটি অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করেছে। এ প্লাটফর্ম দেশের প্রযুক্তি নির্ভর পুঁজিবাজারের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ।

ইনফরমেশন অনলাইন সাবমিশনের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা চেতনায় ও গবেষণার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারের কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) “Smart Submission System of DSE” নামে প্লাটফর্মটি যাএা শুরু করে৷

যার সাহায্যে বিভিন্ন কোম্পানি সিকিউরিটিজ নিয়ম মেনে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকাশ করতে পারবে এবং বিভিন্ন কমপ্লায়েন্স এর মাধ্যমে পরিপালিত হবে৷

Go-Live অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু৷ বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএপিএলসির প্রেসিডেন্ট রুপালী হক চৌধুরী এবং ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম৷ এছাড়াও ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান সিপিএ এবং প্রধান রেগুলেটরি কর্মকর্তা খাইরুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন৷

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান, সিপিএ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম চালু হওয়ায় পুঁজিবাজার আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেমের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো এখন থেকে সহজে নির্ভুল তথ্য প্রকাশ করতে পারবে। আগে যে ইচ্ছা ও অনিচ্ছাভাবে ভুল তথ্য প্রদান ও প্রকাশ করার ঝুঁকি ছিল সেই ঝুঁকি আর থাকবে না। এবং কেউ কোনো অনিয়ম করলে তা সহজেই চিহ্নিত করা যাবে।

তিনি আরো বলেন, আজকের এই কার্যক্রম শুরুর ফলে পুঁজিবাজারের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপের যাত্রা শুরু হল। ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে সঙ্গতি রেখে শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জের সহযোগিতায় ডিএসই’র কর্মকর্তাবৃন্দ স্পেশাল সাবমিশন সিস্টেম তৈরি করেছে। এতোদিন কোম্পানির বিভিন্ন তথ্য ম্যানুয়ালি সাবমিশন করা হতো। যারফলে অনিচ্ছাকৃত ভুল হবার সম্ভাবনা থাকতো। এই সফটওয়্যারটি চালু হবার ফলে এই সমস্যাটিকে সমাধান হবে। এর ফলে কমপ্লায়েন্স পরিপালন করা সহজ হবে। একই সাথে ইনফরমেশন গ্যাপ ও অনিয়ম কমে যাবে।

বিএপিএলসির প্রেসিডেন্ট রূপালি হক চৌধুরী বলেন, অনলাইনে তথ্য জমা দেয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এখন থেকে সময় অনেক বেঁচে যাবে। এতে করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর তথ্য দ্রুততম সময়ে সবার কাছে পৌঁছানো যাবে। তবে সিস্টেমে সমস্যা হলে তা সঙ্গে সঙ্গে সমাধানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। যাতে করে সমস্যা হওয়ার কারণে সিস্টেমের কাজ বন্ধ না হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কাজ হচ্ছে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করা। সবার সঙ্গে কাজ করে বাজারের আরো উন্নতি করা। কোম্পানিগুলোর কিছু সমস্যা আছে। তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে বাজারের এবং বিনিয়োগকারীদের যাতে কোনো সমস্যা বা ক্ষতি না হয়। আজকের এই সিস্টেমের ফলে প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণের অংশ ছাড়াও তথ্য দেয়া আরো সহজ হবে। এতে সময়ের যে ব্যয় হত সেটাও কমে যাবে। যা সময়পযোগী কাজ হয়েছে। অনেক তালিকাভুক্ত কোম্পানি রয়েছে যারা এই সফটওয়্যারটি অতি সহজে ব্যবহার করতে পারবে। একই সাথে কিছু কোম্পানি রয়েছে যারা অটোমেটেড নয় তাদের এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে সহযোগিতা করতে হবে। তারা সময়ের সাথে এই সফটওয়্যারটিতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারের উন্নয়নে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর তথ্য কোনোভাবে যাতে ভুল প্রকাশ না হয় এবং বাদ না যায় সে বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাজার থেকে অনৈতিক মুনাফা করতে না পারে এবং ক্ষতি করতে না পারে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। আজকের এই উদ্যোগের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে অনেক ধন্যবাদ।

তিনি বলেন, বর্তমানে ডিএসইর চেয়ারম্যান একজন আইটি বিশেষজ্ঞ। তাই ভবিষ্যতে যদি ডিএসইর আইটি প্লাটফর্মে ঘাটতি থাকে তবে সেটা দুঃখজনক হব। এছাড়া চায়নারা কৌশলগত বিনিয়োগকারী হওয়ার পর এই প্রথম কোনো কাজে তাদের সহযোগিতা দেখা গেছে। তবে কোম্পানিগুলোর তথ্য যাতে ঠিকভাবে যাচাই করে প্রকাশ করা হয়। তাহলে সবার উদ্দেশ্যে পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএসই’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের প্রধান মো. রবিউল ইসলাম। মূল প্রবন্ধে তিনি তৈরিকৃত সফটওয়্যারটির উদ্দেশ্য, ব্যবহার ও টেকনিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক এবং বিভিন্ন মডিউল সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডিএসই’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের চারটি উপাদানের মধ্যে একটি উপদান হল স্মার্ট ইকোনমি। আর স্মার্ট ইকোনমির দুইটি সেক্টর হচ্ছে ক্যাপিটাল মার্কেট ও মানি মার্কেট। আজকের এই বিষয়টি শুধু প্রধানমন্ত্রীর‌ লক্ষ্য পূরণ নয়, এটি স্মার্ট পুঁজিবাজার তৈরির‌ অংশ হিসেবে কাজ করবে। 

তিনি বলেন, অন্যান্য দেশে পুঁজিবাজার অর্থনীতিতে অনেক ভূমিকা রাখলেও বাংলাদেশে দুর্ভাগ্য জনক সেটা হয় না। আগামীতে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে‌ পুঁজিবাজারকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যেটা এখনো হয়ে উঠেনি। কারণ আমাদের দেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থায়ন হচ্ছে। সেটা উন্নত দেশগুলোতে পুঁজিবাজারের মাধ্যমে হয়। এতে পুঁজিবাজার যেমন বড় হয় তেমনই দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখে।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারকে স্মার্ট করার জন্য এর কার্যক্রমকে পেপারলেস করতে হবে। আর সেই পেপারলেসের যাত্রা আজকে এই প্লাটফর্ম চালুর মাধ্যমে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ডিএসই নিজস্ব স্মার্ট ডাকা সেন্টার তৈরি করছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে পুঁজিবাজার যে স্মার্টের দিকে যাচ্ছে সেটা ডিএসই গত বছর থেকেই শুরু করেছে। আজকে ছিল এর দ্বিতীয় উদ্যোগ। পুঁজিবাজারের অন্যতম উপাদান হল স্টেকহোল্ডারদের তথ্য সঠিকভাবে নেয়া। সেটা যদি না নেয়া যায় তাহলে আধুনিক পুঁজিবাজার করা সম্ভব হবে না। সেই তথ্যই স্মার্টভাবে নেয়ার কার্যক্রম আজকে থেকে শুরু করা হল। এতে তথ্য সঠিক সময় পাওয়া যাবে এবং সঠিক সময়ে নানা উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। আমরা যদি সকলকে সঙ্গে নিয়ে পুঁজিবাজারে উন্নয়নে কাজ করতে পারি তবে প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট ইকোনমি বাস্তবায়ন করতে পরবো।

অনুষ্ঠানে সমাপণী বক্তব্য প্রদান করেন ডিএসই’র প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা খাইরুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ৷

ওয়াইএ

Wordbridge School
Link copied!