ফাইল ছবি
উন্নয়নের বাজেট প্রতি বছরই বাড়ছে। নেওয়া হচ্ছে একের পর এক নতুন প্রকল্প। কিন্তু সেই প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ খরচের গতি অত্যন্ত ধীর। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) উন্নয়ন ব্যয়ের পরিসংখ্যান সামনে এনেছে এক গভীর উদ্বেগ। যেখানে তিন মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি মাত্র ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মোট এডিপির আকার তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রথম তিন মাসে ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য নির্ধারিত এক লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ১৮ কোটি টাকা। ১৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ১১টিই নিজস্ব অর্থ খরচে অক্ষম বলে উঠে এসেছে।
আগের অর্থবছরগুলোর প্রথম তিন মাসের ব্যয়ের হারের সঙ্গে তুলনা করলে পরিস্থিতির অবনতি স্পষ্ট হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যা পরবর্তী বছরগুলোতে ক্রমান্বয়ে কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং চলতি অর্থবছরে ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
মন্ত্রণালয়গুলোর ব্যয়ের অগ্রগতিতেও রয়েছে বড় বৈষম্য। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন হার ১৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ হলেও, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ২ দশমিক ২৭ শতাংশ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য সেবা খাতের ব্যয় মাত্র ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মোট এক হাজার ১৭২টি প্রকল্পের মধ্যে এখনও ১২টি প্রকল্পের কাজই শুরু করা যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিপির সাফল্য শুধু বরাদ্দের বড় আকার দিয়ে বিচার করা যায় না। অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আবু আহমেদের মতে, এত বন্ধের সংস্কৃতি এবং অর্থছাড় ও সঠিক তদারকির অভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন থমকে যাচ্ছে। বছরের শেষ দিকে এসে তাড়াহুড়ো না করে শুরু থেকেই বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা না হলে উন্নয়ন বাজেটের প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হবে সাধারণ মানুষ।
এসএইচ







































