• ঢাকা
  • শনিবার, ০২ মার্চ, ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

হাসপাতালেই নিরাপদ বিএনপি নেতারা


নিউজ ডেস্ক নভেম্বর ৩০, ২০২৩, ০৩:০৬ পিএম
হাসপাতালেই নিরাপদ বিএনপি নেতারা

ঢাকা : এক দফা দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন করছে বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো।

অন্যদিকে আন্দোলনে থাকা নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মামলায় ধরপাকড় চলছে। এরই মধ্যে বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিদিনই নেতাকর্মীদের খোঁজে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অন্যদিকে বিএনপিসহ জোটের শরিক দলগুলোর নেতাদের নির্বাচনে নিতে সরকারের দিক থেকে নানারকম ভয়ভীতি ও আর্থিক প্রলোভন দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। ফলে গ্রেপ্তার ও সরকারের চাপ এড়াতে অনেক নেতাকর্মী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। কেউ কেউ অবস্থান করছেন বিদেশে। তারপরও রেহাই পাচ্ছেন না তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কারাবন্দি নেতাদের স্বজনদের ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বলেছেন, ‘কারাবন্দি নেতাদের পরিবারের সদস্যদের চাপ দেওয়া হচ্ছে কিংস পার্টিতে যোগ দেওয়ার জন্য। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে নতুন কিছু দলের তৎপরতা বেড়েছে। বড় দলের নেতাদের ভাগিয়ে নিয়ে ভুঁইফোড় এসব সংগঠন থেকে নির্বাচনে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে পন্ড করে দেওয়ার পর নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমরসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার করার পরও নেতাদের রেহাই নেই।’

চলমান আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের কষ্টের বিবরণ দিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বিএনপির  নেতাকর্মীরা এক কঠিন সময় পার করছেন। অনেকটা দেশছাড়া উদ্বাস্তুর মতো। সহায় সম্বলহীন নিঃস্ব তারা। বিগত ১৫ বছরে অনেককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, চাকরি থাকলেও কোনো পদোন্নতি পাননি। কেড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। ভেঙে ফেলা হয়েছে দোকানপাট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এখন ঘরছাড়া, বাড়িছাড়া, এলাকাছাড়া নেতাকর্মীরা ধানক্ষেতে মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দৃশ্য দেশবাসী দেখেছে। সুপারির বাগান, ফলের বাগান এবং রান্নাঘরের লাকড়ি রাখার স্তূপের মধ্যে কোনো রকমে জায়গা করে রাত পার করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপির নেতাকর্মীদের যেন মানবাধিকার থাকতে নেই।’

অনেকে গ্রেপ্তার এড়াতে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতে দায়ের হওয়া মামলা থেকে মুক্তি পেলেও অসুস্থ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতে অবস্থান করছেন। স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গুরুতর অসুস্থ। এখনো তাকে মাঝেমধ্যে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।

এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমানসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেককে নিয়মিত চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হচ্ছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সম্প্রতি তাকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ওঠে বিএনপি ছেড়ে তিনি নতুন দল গঠন করছেন।

এরই মধ্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বিএনপির নেতারা তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেবেন।

এরপর মেজর (অব.) হাফিজ সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানিকভাবে বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। সিএমএইচ এবং সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করিয়েছি। আবারও চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাব। রাজনীতি নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো চিন্তাভাবনা করছি না।’

সর্বশেষ অবস্থা জানতে গতকাল বুধবার মোবাইলে ফোন করা হলে সাড়া দেননি হাফিজ।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দলের কোনো কোনো নেতা গ্রেপ্তার এড়াতে বিদেশে রয়েছেন। কেউ কেউ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে অবস্থান করছেন। গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টাম-লীর সদস্য এস এ কে একরামুজ্জামান সুখন বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দরে আটক হন তিনি। এর কয়েকদিন পর গত সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার খবর আসে। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, সরকারের চাপে তাকে মনোনয়ন নিতে হয়েছে।

নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয় দেখাচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকার শাহজাহানপুরে মির্জা আব্বাসের বাসভবনে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারাবন্দি হয়েও নানামুখী চাপে তার পরিবার।

এদিকে গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আইনজীবীসহ সব রাজনৈতিক নেতাকে মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আইন সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অভিযোগ করে বলেন, গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের পর থেকে এ পর্যন্ত ৮৩৭’র অধিক হয়রানিমূলক গায়েবি মামলায় ২০ হাজার ৩২৬ জন বিরোধীদলীয়  নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আসামি করা হয়েছে ৭৩ হাজার ১২৩ জন বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে। আহত হয়েছেন ৮ হাজার ২৪৯ জনের অধিক নেতা আর ৩৫টি মামলায় গত ৩ মাসে ৬৩৬ জন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজারেরও অধিক মামলায় বিএনপি ও বিএনপির সহযোগী সংগঠনসমূহের ৫০ লাখের বেশি নেতাকর্মী-সমর্থকদের আসামি করা হয়েছে। সূত্র : দেশ রূপান্তর

এমটিআই

Wordbridge School
Link copied!