• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

ছবি: প্রতীকী

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বুধবার দুপুর নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকলেও বাংলাদেশে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগামী তিন দিন থেমে থেমে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এতে বুধবার থেকে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইসহ দেশের কয়েকটি উপকূলীয় এলাকার কিছু অংশে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী তিন দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে।

তবে ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি বড় ধরনের প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা না থাকলেও এর প্রভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে বুধবার থেকে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক।

সম্প্রতি সারা দেশে তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে অনেক সময় দেশের আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। ফলে সূর্যের আলো বেশি সময় ধরে পড়ায় তাপমাত্রা বাড়ে। তবে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমতে পারে।

বৃষ্টির পরই দেশে শীতের আমেজ শুরু হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল কালাম মল্লিক জানান, এখনই শীতের আমেজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নভেম্বরের শেষের দিকে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে কার্তিক মাসে দেশের প্রান্তিক এলাকাগুলোতে ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা শীত অনুভূত হয়। এ সময় কুয়াশার ধোঁয়াশাও দেখা দিতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তির ১২ নম্বর বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৩০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে থাকায় বাংলাদেশে বড় ধরনের প্রভাবের আশঙ্কা না থাকলেও উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী তিন দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তাপমাত্রা কমতে পারে বলে পূর্বাভাস থাকলেও এখনই শীতের আমেজ শুরু হচ্ছে না। আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতের অনুভূতি বাড়তে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

এসএইচ 

Link copied!