আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জটিল হয়ে উঠছে বরিশালের রাজনৈতিক সমীকরণ। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীদের বৈধতা চূড়ান্ত হওয়ার পর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে তৈরি হয়েছে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। জোটগত সমঝোতা না হওয়া, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং শক্ত প্রতিপক্ষের কারণে এসব আসনে ভোটের হিসাব নতুন করে কষতে হচ্ছে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে।
জোট না হওয়ায় বেড়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আট দলীয় জোটের মধ্যে আসনভিত্তিক সমঝোতা না হওয়ায় বরিশালের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে একাধিক দল। এতে করে ভোটের মাঠে উত্তাপ বাড়ছে, পাশাপাশি ভোটারদের সিদ্ধান্তও হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ।
বরিশাল-১ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীই বড় চ্যালেঞ্জ
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলেরই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান। উভয়ের মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় ভোট বিভাজনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান জানান, দীর্ঘ চার দশক ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ, একাধিক মামলায় কারাভোগ এবং ব্যক্তিগত অর্থায়নে সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থেকেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণ একটি ভয়ভীতিমুক্ত, সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ার পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন ওমরাহ হজ পালন উপলক্ষে সৌদি আরবে অবস্থান করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
বরিশাল-৪ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসানের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। তবে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির আবদুর জব্বার দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় থাকায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমর্থন পুরোপুরি একীভূত না হওয়ায় এখানে ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
বরিশাল-৫ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস
বরিশাল সদর আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৫ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের নেতারা দাবি করছেন, এ আসনে তাদের প্রার্থীর জনসমর্থন শক্ত। অপরদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারীরা বলছেন, বরিশাল সদর আসনে ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির ভোট ব্যাংক শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
ভোটারদের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত
সব মিলিয়ে বরিশালের এই তিনটি আসনে দলীয় হিসাবের পাশাপাশি ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্তই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শেষ মুহূর্তে প্রচারণা, জনসংযোগ ও ভোটার উপস্থিতিই নির্ধারণ করবে কার ভাগ্যে যাচ্ছে সংসদের আসন।
এম
আপনার মতামত লিখুন :