রমজানে মানসিক ভারসাম্যহীনদের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কুয়াকাটায়

  • কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
রমজানে মানসিক ভারসাম্যহীনদের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কুয়াকাটায়

ছবি : প্রতিনিধি

কুয়াকাটা: পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মানসিক ভারসাম্যহীন, ছিন্নমূল, ভবঘুরে ও অসহায় মানুষের মাঝে প্রতিদিন খাবার বিতরণ শুরু করেছে  “কুয়াকাটা ইয়ুথ সার্কেল” নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। প্রথম রোজা থেকেই সংগঠনের সদস্যরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে এসব মানুষের হাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় কুয়াকাটার অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় খাবারের সংকটে পড়েছেন অনেক মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভবঘুরে মানুষ। কেউ রাস্তার পাশে, কেউ সমুদ্র সৈকত এলাকায় অভুক্ত অবস্থায় সময় কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে স্থানীয় কয়েকজন তরুণ এগিয়ে এসে প্রতিদিন অন্তত এক বেলা খাবার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন।

সংগঠনের সদস্যরা জানান, তারা নিজেদের অর্থায়ন ও স্বল্প সামর্থ্য নিয়েই এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কোনো বড় তহবিল বা স্পন্সর ছাড়াই শুধুমাত্র মানবিক দায়বদ্ধতা, পারস্পরিক ঐক্য ও সহমর্মিতার শক্তিকে পুঁজি করেই তারা এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন। রমজান মাসের পুরো ৩০ দিনজুড়ে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

ইয়ুথ সার্কেলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল বলেন, “আমরা চাই রমজানের এই পবিত্র মাসে কেউ যেন অন্তত এক বেলা খাবার থেকে বঞ্চিত না হন। আমাদের সামর্থ্য সীমিত, কিন্তু ইচ্ছাশক্তি অটুট। সমাজের অসহায়, ছিন্নমূল ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ, রমজানের পুরো ৩০ দিন আমরা এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো।”

ইয়ুথ সার্কেলের সভাপতি ইসমাইল জানান, কুয়াকাটা ইয়ুথ সার্কেল সবসময় মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করে। ‘মিশন ১২ মাসে অংশ হিসেবে আমরা ১২টি ভালো কাজ করবো। মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছি। রমজান মাসে এই খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি আমাদের সেই অঙ্গীকারেরই একটি বাস্তব প্রয়াস। আমরা সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।

এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে কুয়াকাটা শুভ সংঘ ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, “বর্তমান সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। কুয়াকাটার তরুণরা যেভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। আমি আশা করি, এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও অনেক তরুণ এতে অনুপ্রাণিত হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পর্যটননির্ভর কুয়াকাটায় মৌসুমি কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা অসহায় মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তরুণদের এই মানবিক কার্যক্রম অন্যদেরও এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

পিএস

Link copied!