শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে বাঁশের কঞ্চি আর কলাগাছেই ভরসা ১৫৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

  • পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে বাঁশের কঞ্চি আর কলাগাছেই ভরসা ১৫৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

ছবি : প্রতিনিধি

বরগুনা: ফেব্রুয়ারি মাস এলেই শহীদ মিনারগুলোর কদর যেন হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। বিশেষ করে একুশে ফেব্রুয়ারি সামনে এলেই শুরু হয় ধোঁয়া-মোছা ও নতুন করে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরির তোড়জোড়। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের ৭৩ বছর পেরিয়ে গেলেও পাথরঘাটা উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজও নেই স্থায়ী শহীদ মিনার।

উপজেলায় মোট ২০৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৩টি প্রতিষ্ঠানে নেই কোন স্থায়ী শহীদ মিনার। ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে কলাগাছ ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়। বছরের এই একটি মাসেই কলাগাছ আর বাঁশের কঞ্চিই যেন হয়ে ওঠে শহীদ স্মরণের একমাত্র অবলম্বন। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তো স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীদের ফুল দিতে যেতে হয় দূরের কোনো প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে, সেগুলোর অনেকটাই পড়ে থাকে বছরের পর বছর অযত্ন ও অবহেলায়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটায় ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১১টিতে রয়েছে স্থায়ী শহীদ মিনার। আর বাকি ১৩৮টি বিদ্যালয়ে নেই কোনো শহীদ মিনার।

অন্যদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আওতাধীন ৫৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে (২৯টি স্কুল, ১৮টি মাদ্রাসা ও ৭টি কলেজ) ৩৯টিতে স্থায়ী শহীদ মিনার থাকলেও ১৫টি প্রতিষ্ঠান এখনো বঞ্চিত।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি এলে তারা বাধ্য হয়ে বাঁশের কঞ্চি ও কলাগাছ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে দিবসটি পালন করেন। তবে তাদের দাবি, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হোক।

স্থানীয় অভিভাবক মহলের দাবি, দেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তাদের কাছে আমাদের জোর দাবি, অতি দ্রুত প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করা হোক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিনাত জাহান জানান, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারি কোন বরাদ্দ নেই। তারপরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের বরাদ্দের জন্য  আবেদন করা হয়েছে।

পাথরঘাটা উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুল ইসলাম বলেন, গত বছর উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অবশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আপাতত যেসব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই, সেখানে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে দিবসটি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পিএস

Link copied!