ছবি: প্রতিনিধি
সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। শ্রমিক অধ্যুষিত এ অঞ্চলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা লাখো মানুষের বসবাস। প্রতিনিয়ত চুরি, ছিনতাই, ভাঙচুর, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশুলিয়ার জামগড়া, ভাদাইল, রুপায়ন মাঠ, নাভানা মাঠ, ছয়তলা, গাজিরচট আড়িয়ারার মোড়, উষা পোল্ট্রি এলাকা, চিত্রশাইল, কান্দাইল, বাগবাড়ি, ইউসুফ মার্কেট, জিরাবো, তৈয়্যবপুর, সরকার মার্কেট, নিশ্চন্তপুর ও নারসিংহপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয়তা বেড়েছে। সন্ধ্যা নামলেই চুরি-ছিনতাই ও মাদকের বেচাকেনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া ও গুলির ঘটনার অভিযোগও রয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে জামগড়া এলাকা থেকে ১৪ জন কিশোর গ্যাং সদস্য গ্রেপ্তার হলেও বড় ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য না পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ কাটছে না।
জামগড়ার মোল্লা বাজার এলাকার ভ্যানগাড়ি ব্যবসায়ী মেহেদী অভিযোগ করেন, কিশোর গ্যাং লিডার রাজ কুমার ওরফে রাজু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানা অপকর্ম করে আসছে। ব্যবসা চালাতে হলে মাসে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে বলা হয়। রাজি না হওয়ায় তাঁর দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ করলেও এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
এক চা-দোকানি বলেন, হঠাৎ গুলির শব্দে দোকান বন্ধ করে পালাতে হয়। নিয়মিত পুলিশ অভিযান চালালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। এক নারী ভাড়াটিয়া জানান, দুই দিন পরপর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তাঁরা। রিয়াদ নামে এক পোশাক শ্রমিক বলেন, অফিস থেকে ফেরার পথে অস্ত্রের মহড়া দেখে আতঙ্কে দ্রুত সরে যেতে হয়।
অভিযুক্ত রাজ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়–এর অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিশোরদের ভোকেশনাল বা কারিগরি শিক্ষায় সম্পৃক্ত করলে তারা কর্মমুখী হবে এবং অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হাওলাদার জানান, জামগড়া এলাকাকে চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক (উত্তর) বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরাফাতুল ইসলাম বলেন, মাঝে মধ্যে গুলির ঘটনার সত্যতা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। কিশোর গ্যাং ও মাদকের সঙ্গে জড়িতদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে কিশোর গ্যাং সদস্যদের আইনের আওতায় এনে অঞ্চলটিকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে। ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, জামগড়া এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদকের তৎপরতা গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিত অভিযান, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং কিশোরদের কারিগরি শিক্ষায় সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়েই আশুলিয়াকে কিশোর গ্যাং ও মাদকমুক্ত করা সম্ভব।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :