চুরি–ছিনতাই, নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কিত ময়মনসিংহবাসী

  • রিপন গোয়ালা অভি, ময়মনসিংহ | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
চুরি–ছিনতাই, নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কিত ময়মনসিংহবাসী

ছবি: প্রতিনিধি

ময়মনসিংহে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। শুধু রাত নয়, দিনের আলোতেও প্রকাশ্যে দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে চুরি হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি থাকলেও বেশিরভাগ সচল নয় বা নজরদারি কার্যকর নয়। জনসাধারণ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছে না।

শহরের পাটগুদাম ও মুক্তাগাছা এলাকায় দিনে দিনে একের পর এক দোকান ভেঙে মালামাল লুট হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কিছু চক্র সদস্য মিনি ট্রাক ব্যবহার করে সাটার ভেঙে মালামাল নিয়ে পালাচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সিসিটিভি থাকলেও অনেকগুলো নষ্ট এবং সচল থাকা সেগুলোতেও কার্যকর নজরদারি নেই।

জেলা ব্যবসায়ী ও ভবন মালিকরা বলেন, ঈদে ঘরবাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়া এখন আতঙ্কজনক। তারা বলছেন, এত ক্রমবর্ধমান চুরি-ছিনতাইয়ে বাস করা নিরাপদ নয়।

ময়মনসিংহ জনউদ্যোগের সদস্য সচিব শাখাওয়াত হোসেন বলেন, চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতি দমনে প্রশাসনের সক্রিয়তা বৃদ্ধি ও সকলের সমন্বয়ে পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, মাদকের কারণে অপরাধ বেড়েছে। মাদক নির্মূল না হলে অপরাধও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্পটে টহল জোরদার করেছে। সাদা পোশাকধারী সদস্যরাও মাঠে রয়েছে। চুরি-ছিনতাই বা ডাকাতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে অনেক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার অপরাধে যুক্ত হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জেলায় ১১১টি খুনের মধ্যে ২০টি খুন ছিনতাইকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। একই বছরে ছিনতাইয়ের ৬০টি মামলায় ৪৬৭ জন গ্রেফতার হয়। সামাজিক ও আইনি হয়রানির কারণে অনেকে আইনের আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, প্রতি মাসে এক হাজারের বেশি চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

এসএইচ 

Link copied!