ছবি : প্রতিনিধি
পাথরঘাটা: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কালিবাড়ি গ্রামে বাকপ্রতিবন্ধী ও মানসিক ভারসাম্যহীন এক তালাকপ্রাপ্ত নারী কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। শিশুর পিতৃপরিচয় নিয়ে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কালিবাড়ি গ্রামের মো. ইউনুসের দ্বিতীয় মেয়ে আরজু (২৩) গত ১ জুলাই আনুমানিক সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
পরিবারের দাবি, প্রায় আট বছর আগে আরজু মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং বাকপ্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। এ অবস্থার কারণে আড়াই বছর আগে স্বামী রাকিবের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এর আগে তাদের প্রায় ছয় বছরের সংসার ছিল। বিচ্ছেদের পর থেকে আরজু বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন।
আরজুর বাবা মো. ইউনুস বলেন, আমার মেয়ে কোথাও একা যেত না। সে কথা বলতে পারে না, নিজের মনের কথাও বোঝাতে পারে না। আমরা বুঝতেই পারিনি সে গর্ভবতী ছিল। এমনকি সন্তান জন্মের আগের দিন পর্যন্তও বিষয়টি টের পাইনি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বুঝতে পারি সে সন্তানসম্ভবা। কিছুক্ষণ পর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। কে বা কারা তার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, আমরা জানি না।
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ের মুখের ভাষা নেই। সে কিছু বলতে পারে না। তাই শিশুটির বাবার পরিচয়ও জানা সম্ভব হচ্ছে না।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ওই বাড়িতে যান।
স্থানীয় বিএনপির সভাপতি মো. রাজ্জাক শেখ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। যারাই এর সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
স্থানীয় বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী বলেন, একজন অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সঙ্গে এমন ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রকৃত দোষীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জালাল মিয়া বলেন, পরিবারটিকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। বিভিন্ন সময় তাদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহযোগিতা করেছি। তবে আরজু যে গর্ভবতী ছিলেন, তা বুঝতে পারিনি।
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :