শরীয়তপুরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১০ ইউপি সদস্যের অনাস্থা

  • শরীয়তপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
শরীয়তপুরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১০ ইউপি সদস্যের অনাস্থা

ছবি : প্রতিনিধি

শরীয়তপুর: শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মেরাজের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় না করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে তার অপসারণ দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন সদস্য।

এদিকে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন।

ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ ১৩ সদস্যের। পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এরপর পরিষদের ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মেরাজ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে তিনি পরিষদের অন্য সদস্যদের অবগত করেন না। এমনকি টিউবওয়েল, সরকারি চাল বিতরণসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জাহিদুল ইসলাম মেরাজের বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল করেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। এর কয়েকদিন পর রোববার তার অপসারণ দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দেন পরিষদের ১০ জন সদস্য।

চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামরুজ্জামান বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ এলে চেয়ারম্যান আমাদের অবগত করেন না। এমনকি নাগরিকদের বয়স্ক ভাতা, টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার কথা বলে নগদ টাকা নেওয়া হলেও সেবা না দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। টাকা ফেরত চাইলে সেটিও ফেরত দেওয়া হয় না। এ কারণে এলাকাবাসী কিছুদিন আগে তার বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল করেছে। তার এ ধরনের কার্যক্রমের কারণে আমরা তাকে চেয়ারম্যানের পদে দেখতে চাই না। এজন্য আমরা ১০ জন ইউপি সদস্য তার বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছি।”

সংরক্ষিত নারী সদস্য সিজিয়া বেগম বলেন, “তিনি আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় না করে একা একা কাজ করেন। কোনো বিষয়েই আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেন না। যেহেতু তিনি পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় না করেই কাজ করছেন, তাই আমরা ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন সদস্য তার বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছি।”

তবে ইউপি সদস্যদের আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মেরাজ। তিনি বলেন, “এটি একটি ষড়যন্ত্র। আমি বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী আর তারা আওয়ামী লীগের লোক। তারা ষড়যন্ত্র করে আমাকে সরাতে চায়। আগের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খানের নেতৃত্বে কিছু লোকজন আমার পরিষদে এসে আমাকে অপমান-অপদস্থ করেছে। তারা সবাই ভাড়া করা লোক।”

এ বিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, “চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মেরাজের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা এসে একটি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন এবং এ সংক্রান্ত একটি আবেদন দিয়েছেন। ১০ জন ইউপি সদস্য মিলে আবেদনটি করেছেন। তারা দাবি করেছেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে নিয়ে তারা কাজ করতে চান না। আবেদন মোতাবেক পরবর্তী আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পিএস

Link copied!