ছবি: সংগৃহীত
নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া নিরাপত্তাহীনতার বার্তা এবং থানায় করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি)। হত্যার হুমকি পাওয়ার পরও ছেলেকে বাঁচাতে পারেনি পুলিশ-এমন অভিযোগ তুলে নিহতের বাবা রবিউল করিম এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এদিকে এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে ও গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার নাটোরের গুরুদাসপুর আমলি আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে গত ২০ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন শাকিল ইসলাম। সেখানে তিনি নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে লেখেন, তাঁকে হত্যার জন্য একটি পক্ষ বিভিন্ন চক্র ও গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং এ কাজে অর্থ দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। কোনো অঘটন ঘটলে ওই জিডির ভিত্তিতে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেই আশঙ্কার কথাও তিনি জানিয়ে রেখেছিলেন।
শাকিলের বাবা রবিউল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হত্যার হুমকি পাওয়ার পর তাঁর ছেলে থানায় জিডি করেছিল। অথচ শাকিলকে বাঁচাতে পারেনি পুলিশ। আবার খুন হওয়ার পরও অপরাধী ধরতে পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা ছিল। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই হত্যার ঘটনায় জড়িত দাবি করে তিনি ছেলে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান।
ঘটনায় অভিযুক্ত নূরুজ্জামান মিন্টুকে সোমবার রাতে গুরুদাসপুর বাজারসংলগ্ন একটি ভাড়া বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মঙ্গলবার আদালতে মিন্টুকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকলেও মিন্টু নিজে শুনানিতে অংশ নিয়ে দাবি করেন যে তিনি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন এবং পুলিশ যথাযথ যাচাই ছাড়া তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামির সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ের জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌরসভার খামারনাচকৈড় খোয়ারপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। গত ১৪ অক্টোবর রাতে স্থানীয় চাঁচকৈড় বাজার থেকে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন শাকিল। পরে তাঁকে রাজশাহী হয়ে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন তাঁর বাবা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের দুই ছেলে নূরুজ্জামান মিন্টু ও মাহমুদুজ্জামান সোহাগের পৃথক অনুসারী গোষ্ঠী রয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। নিহত শাকিল সংসদ সদস্যের ছোট ছেলের অনুসারী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে এই রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকার হাসপাতালে সংসদ সদস্য আবদুল আজিজকে অবরুদ্ধ করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকালে শাকিলের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, অপ্রত্যাশিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সন্তান জড়িত থাকলে তাঁকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
এসএইচ