শেয়ারবাজারে আইপিও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
শেয়ারবাজারে আইপিও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, কম সময়সাপেক্ষ ও সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর করার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

আগামী অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট আশ্বাস দেবেন বলে জানা গেছে।

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, আইপিওতে আবেদন দাখিল থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, ফি পরিশোধ, সংশোধন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের সব ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে আইপিও প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইপিওর পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে আরও গভীর, স্বচ্ছ, বহুমাত্রিক ও আস্থাভিত্তিক করতে সরকার যে বিস্তৃত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, সেগুলোর কথাও বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী।

প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া সহজ করতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং অনুমোদন ও পরিপালন-সংক্রান্ত অস্পষ্টতা কমানো।

ইস্যুকারী কোম্পানি, ইস্যু ব্যবস্থাপক, স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিশ্চিত করা।

পেনশন তহবিল, বীমা প্রতিষ্ঠান, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি), মিউচুয়াল ফান্ডসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

করপোরেট বন্ড বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে পৌর বন্ড ইস্যুর ব্যবস্থা গ্রহণ।

সরকারি ও বেসরকারি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অর্থায়নে বন্ড, সুকুক, তহবিলসহ বিভিন্ন অর্থায়ন উপকরণের ব্যবহার বাড়ানো।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, ব্যাংক, ব্রোকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্যব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা।

দেশীয় কোম্পানির জন্য আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জে দ্বৈত তালিকাভুক্তির (রিজিওনাল ডুয়াল লিস্টিং) সম্ভাবনা যাচাই।

নিরীক্ষক, মূল্যায়নকারী ও ইস্যু ব্যবস্থাপকসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের জন্য পেশাগত দায়বদ্ধতা কাঠামো এবং দায়বদ্ধতা বীমা প্রবর্তন।

পুঁজিবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা (সেটেলমেন্ট টাইম) বর্তমানের টি+২ থেকে ধাপে ধাপে কমিয়ে টি+০–তে নামিয়ে আনা।

এছাড়া বৈধ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা এবং অনিবাসী বিনিয়োগকারী টাকা হিসাবের মাধ্যমে ক্রয়কৃত শেয়ার বা সিকিউরিটিজ বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রত্যাবাসন ও পুনঃবিনিয়োগের প্রক্রিয়া এক কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

অর্থনীতিবিদ ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে।

এএইচ/পিএস

Link copied!