বিলাসী খাদ্যপণ্যে করের চাপ, বাজেটে বাড়ল সম্পূরক শুল্ক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক  | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
বিলাসী খাদ্যপণ্যে করের চাপ, বাজেটে বাড়ল সম্পূরক শুল্ক

ফাইল ছবি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানি-নির্ভর বিভিন্ন খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ আইনের সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর দ্বিতীয় তফসিলের টেবিল-১ প্রতিস্থাপন করে একাধিক পণ্যের ওপর নতুন হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে গরু, ভেড়া ও ছাগলের মাংস আমদানিতে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হবে। বিভিন্ন প্রকার মাছ ও মাছজাত পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কহার ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। হিমায়িত চিংড়ির ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

দুগ্ধজাত পণ্যের মধ্যে মাখন, দুগ্ধজাত চর্বি ও চিজের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ধার্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক মধুর ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে।

ফল ও সবজির ক্ষেত্রেও করের চাপ বাড়ছে। টমেটো ও অন্যান্য তাজা সবজির ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে আম, লেবু, আঙ্গুর, আপেল, নাশপাতিসহ বিভিন্ন আমদানিকৃত ফলের ওপর ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। সুপারির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পানীয় ও মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যেও শুল্ক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। কফি, গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টির ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি গোলমরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ ও জিরার মতো জনপ্রিয় মসলার ওপরও ২০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হবে।

এ ছাড়া পরিশোধিত নারিকেল তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ এবং গ্লুকোজ ও সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক খাদ্য উপাদানের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে সরকার রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরির লক্ষ্যও রয়েছে। তবে আমদানিনির্ভর খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে নতুন শুল্কহার কার্যকর হলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এসএইচ 
 

Link copied!