আজ বিশ্ব দৃষ্টি দিবস

অন্ধত্বের ঝুঁকিতে দেশের প্রায় ১০ লাখ মানুষ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
অন্ধত্বের ঝুঁকিতে দেশের প্রায় ১০ লাখ মানুষ

ছবি: প্রতীকী

দেশে অন্ধত্বের প্রায় ৮০ শতাংশ ঘটনার জন্য ছানি দায়ী। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ছানি অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু এই বিপুল রোগীর বিপরীতে দক্ষ সার্জন রয়েছেন মাত্র দুই হাজার ২০০ জন। সক্রিয় ও অভিজ্ঞ সার্জন আরও কম। ফলে চিকিৎসাযোগ্য এই রোগ দেশের একটি বড় অংশের দৃষ্টিহীনতার কারণ হয়ে আছে।

বিশেষজ্ঞদের হিসাবে দেশে নিবন্ধিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। এর মধ্যে ছানি অস্ত্রোপচারে সক্রিয় ও অভিজ্ঞ সার্জন আছেন ৪০০ থেকে ৮০০ জন। অপেক্ষমাণ রোগীর হিসাবে গড়ে ৮৩৩ জনের বিপরীতে একজন দক্ষ সার্জন রয়েছেন। প্রতিবছর নতুন করে ছানি রোগী যুক্ত হচ্ছেন এক লাখের বেশি।

আজ বিশ্ব দৃষ্টি দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য চোখকে ভালোবাসুন। চিকিৎসকরা বলছেন, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও দ্রুত অস্ত্রোপচার করলে অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে শুধু সার্জনের ঘাটতি নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা না পৌঁছানো, রোগী শনাক্তে দুর্বলতা এবং সচেতনতার অভাব বড় বাধা। এছাড়া চিকিৎসায় নারী-পুরুষের বৈষম্যও রয়েছে।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সমীক্ষা অনুযায়ী, ছানি অস্ত্রোপচারের হার পুরুষদের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ। নারীদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অনেকে যাতায়াত খরচ ও অজ্ঞতার কারণে অস্ত্রোপচার করাতে পারেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর অতিরিক্ত অন্তত দুই লাখ ছানি অস্ত্রোপচার করা না গেলে ব্যাকলগ কমানো কঠিন হবে। এর জন্য জেলা হাসপাতালগুলোকে সক্ষম করে তুলতে হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। ২৫০ শয্যার জনবল দিয়ে এই চাপ সামলানো কঠিন। তবে এখানে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৩০ জনের ছানি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং বিনামূল্যে লেন্স দেওয়া হয়।

জাতীয় অন্ধত্ব জরিপ ২০২০ অনুযায়ী, ত্রিশোর্ধ্ব মানুষের মধ্যে অন্ধত্বের হার ১ শতাংশ। দেশে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ অন্ধত্ব নিয়ে বেঁচে আছেন। এর মধ্যে ছানিজনিত অন্ধত্বে আক্রান্ত পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। গত দুই দশকে অন্ধত্বের হার কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ।

শুধু ছানি নয়, চশমার অভাবেও লাখ লাখ মানুষ দৃষ্টি সমস্যায় ভুগছেন। প্রায় ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের দৃষ্টিত্রুটি থাকলেও চশমা ব্যবহারের সুযোগ পান মাত্র ২৬ শতাংশ। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রান্তিক অঞ্চলে মৌলিক সেবা ছড়িয়ে দিতে পারলে এবং আগামী পাঁচ বছরে সব ছানি রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনতে পারলে এই সংকট দূর করা সম্ভব।

এসএইচ 

Link copied!