নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষক প্রধান

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষক প্রধান

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট নিয়ে নিজেদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। 

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, সার্বিকভাবে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসন অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে বলে মনে করে ইইউ। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইইউর পর্যবেক্ষকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৮০৫টি ভোটকেন্দ্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। ইভারস আইজাবস বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় প্রার্থীরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের গণসংযোগ ও প্রচার কাজ চালাতে পেরেছেন, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম প্রধান শর্ত। 

এছাড়া ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে জয় ও পরাজয় মেনে নিয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এমন সুস্থ ধারার চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই পর্যবেক্ষক প্রধান। 

নির্বাচনের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইভারস আইজাবস বলেন, নির্বাচনে নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর কথাবার্তা ও আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকাটা নারী ক্ষমতায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকেই ফুটিয়ে তুলেছে। 

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারী প্রার্থীদের চরিত্রহরণ, যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য এবং পুরুষতান্ত্রিক ডিজিটাল হয়রানির ঘটনাগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা এই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ইইউ প্রতিনিধি দল।

পর্যবেক্ষক দলের প্রধান বলেন, গণতান্ত্রিক সুস্থ চর্চায় নারীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল হয়রানি বা চরিত্রহরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে। তবুও সামগ্রিক বিচারে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের কর্মতৎপরতায় ইইউ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের উপস্থিতি এবং ভোটদানের পরিবেশও ছিল সন্তোষজনক। 

সংবাদ সম্মেলনে ইইউ প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও সুদৃঢ় হবে এবং নারী অধিকার রক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

এসআই

Link copied!