ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের বেশ কয়েকটি আসনে খুব কম ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত ২১টি আসনে ব্যবধান ছিল পাঁচ হাজারের নিচে, যেখানে সামান্য ভোটের হেরফেরেই ভিন্ন ফল আসতে পারত। এসব আসনের বড় অংশেই হেরে গেছে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
সবচেয়ে কম ব্যবধানে পরাজয়ের ঘটনা ঘটে মাদারীপুর-১ আসনে। সেখানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস–এর প্রার্থী সাঈদ উদ্দিন হানজালার কাছে বিএনপির নাদিরা আক্তার মাত্র ৩৮৫ ভোটে হারেন। সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির এম. আকবর আলী ৫৯৪ ভোটে হেরে যান জামায়াত প্রার্থীর কাছে। রাজশাহী-১ আসনেও ব্যবধান ছিল ৭৭৪ ভোট।
ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির এম এ কাইয়ুম দুই হাজার ৩৯ ভোটে পরাজিত হন প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে। একইভাবে ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-৪ আসনেও জামায়াত প্রার্থীদের কাছে বিএনপি প্রার্থীরা যথাক্রমে ৩ হাজার ৩৬১ ও ২ হাজার ৯২০ ভোটে হেরে যান। পাবনা-৩, পাবনা-৪, রংপুর-৬, বাগেরহাট-১, নেত্রকোণা-৫ এবং বরগুনা-১ আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা পাঁচ হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–র প্রার্থীরাও কয়েকটি আসনে অল্প ব্যবধানে জয় হাতছাড়া করেন। কক্সবাজার-৪ আসনে বিএনপির শাহজাহান চৌধুরীর কাছে জামায়াতের নূর আহমদ আনোয়ারী ৯২৯ ভোটে পরাজিত হন। গাইবান্ধা-৪ ও খুলনা-৫ আসনেও তাদের প্রার্থীরা যথাক্রমে ৩ হাজার ৩৪ ও ২ হাজার ৬০৮ ভোটে হেরে যান।
ঢাকার ১৭ নম্বর আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর কাছে জামায়াতের এস এম খালিদুজ্জামান ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটে পরাজিত হন। একইভাবে ঢাকা-১০ আসনেও জামায়াতের প্রার্থী প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান বিএনপি প্রার্থীর কাছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব আসনের ফলাফল দেখিয়েছে যে নির্বাচনে ভোটের ক্ষুদ্র ব্যবধানই বড় রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। সামান্য ভোটের ওঠানামাই একাধিক আসনের চিত্র পাল্টে দিতে পারত এবং সামগ্রিক ফলাফলেও এর প্রভাব পড়তে পারত।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :