ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত নতুন পে-স্কেল ঘোষণার দাবি জোরালো হলেও বাস্তবে এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। ফলে কবে নাগাদ নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে, তা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের কাজ নীতিগতভাবে এগোলেও এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ করে বেতন কাঠামোর নতুন গ্রেড নির্ধারণ, ভাতা সমন্বয় এবং সরকারের সামগ্রিক ব্যয়ভার নিয়ে বিস্তারিত হিসাব–নিকাশ চলছে। এসব কারণে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা ২০১৫ সালে চালু হওয়া অষ্টম পে-স্কেলের আওতায় বেতন পাচ্ছেন। এর পর প্রায় এক দশক পার হয়ে গেছে। এই সময়ের মধ্যে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেল নিয়ে প্রত্যাশাও বেড়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে।
তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বড় একটি বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, ঋণ পরিশোধের চাপ এবং বাজেট ঘাটতি সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা বাড়িয়েছে। নতুন পে-স্কেল চালু হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় কয়েক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব করা হচ্ছে। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় খুব সতর্কভাবে এগোচ্ছে।
এদিকে নতুন পে-স্কেলের জন্য গঠিত পর্যালোচনা কমিটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত সংগ্রহ করছে। বেতন কাঠামোর পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সেটিও আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সরকারি সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ঈদের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এখনো নীতিগত বেশ কিছু বিষয় চূড়ান্ত হয়নি এবং আর্থিক প্রভাব বিশ্লেষণও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। তবে আলোচনা এগোচ্ছে এবং সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বাজেট প্রণয়নের সময় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেতে পারে।
সব মিলিয়ে নতুন পে-স্কেল নিয়ে প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবতা বলছে, এটি ঘোষণা করতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাজেটের সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির ওপরই নির্ভর করছে নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :