এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী 

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী 

ছবি: প্রতিনিধি

সরকারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার সংসদে একাধিক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, অতীতেও বিএনপি সরকারের সময়ে আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।

সংসদে আলোচনায় উঠে আসে ইসলামী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের বিপুল পরিমাণ ঋণ এবং তা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ইসলামী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা খেলাপি অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি না এবং পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ চলছে কি না, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে কোনো সংশোধনী আনা হয়নি। বরং এটিকে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেউ চাইলে ব্যাংকের শেয়ার নিতে পারেন, আবার নতুন বিনিয়োগকারীরাও অংশ নিতে পারবেন বলে তিনি জানান।

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন সংশোধন নিয়ে বিভিন্ন মহলের উদ্বেগের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য সুযোগ তৈরি নয়, বরং ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা আনতে একটি ‘নতুন উইন্ডো’ বা নতুন সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

সংসদে তিনি আরও জানান, এস আলম গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপের অর্থ পাচার সংক্রান্ত মামলায় বিদেশি বিভিন্ন দেশে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে এবং বিদেশে তাদের সম্পদ অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, শেয়ার ও সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে অর্থপাচার করা অর্থ উদ্ধার একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া, তবে সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ আদায় ও ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বিভিন্ন আইন সংশোধনের কাজ চলছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় বাড়াতে এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকাতে কৌশলপত্র বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে রেজোল্যুশন স্কিমের আওতায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সুরক্ষিত আমানত পরিশোধ করা হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিবেচনায় অর্থ ছাড় করা হচ্ছে।

বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি প্রায় ৭ হাজার ৮০৬ কোটি ডলার। অতীত সরকারের নেওয়া ঋণের বোঝা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই বর্তমান সরকারকে এগোতে হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এসএইচ 

Link copied!