স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য নতুন পে স্কেলে কী আছে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য নতুন পে স্কেলে কী আছে

আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল কার্যকরের জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দও রাখা হয়েছে। তবে নতুন এই বেতন কাঠামোর সুবিধা একযোগে সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী পাবেন কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। বিশেষ করে স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নতুন পে স্কেলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এক ধরনের বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি বিবেচনায় রেখে এবার পে স্কেল এক ধাপে নয়, বরং কয়েক দফায় পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। ফলে জুলাই থেকে নতুন কাঠামো কাগজে-কলমে কার্যকর হলেও বর্ধিত অর্থ হাতে পেতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগামী অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে জটিলতা কোথায়?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক ও বেতন কাঠামো সরাসরি সরকারি নিয়মে চলে না। অনেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাকরি বিধিমালা রয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড) বা মূল মন্ত্রণালয়ের আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এই প্রশাসনিক ভিন্নতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখন চাতক পাখির মতো সরকারি প্রজ্ঞাপনের দিকে তাকিয়ে আছেন। প্রজ্ঞাপনে তাদের বিষয়ে কী নির্দেশনা থাকে, তার ওপরই নির্ভর করছে তাদের বর্ধিত বেতন পাওয়ার সময়সীমা।

বেতন বৃদ্ধির টেবিলে ৩ বিকল্প প্রস্তাব

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মূলত তিনটি বিকল্প ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছেন:

প্রথম প্রস্তাব: সব গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের অর্ধেক (৫০ শতাংশ) কার্যকর করা। পরবর্তীতে বাকি অংশ ও ভাতা সমন্বয়।
দ্বিতীয় প্রস্তাব: উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের বৈষম্য কমাতে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের জন্য ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি।
তৃতীয় প্রস্তাব: একদম প্রান্তিক ও নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তাদের মূল বেতন শতভাগ (১০০ শতাংশ) বাড়িয়ে দেওয়া।

ইতিবাচক তালিকায় পেনশন ও এমপিওভুক্তরা

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাধারণ পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের আওতায় আনার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে সরকার।

এদিকে গত বুধবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পে কমিশনের জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশগুলোর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীসংক্রান্ত সুপারিশগুলো এখনো ঝুলে রয়েছে। এই দুটি স্পর্শকাতর খাতের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে শিগগিরই আলাদা বৈঠক ডাকবে সরকার।

এম

Link copied!