বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হলেও এর প্রভাবে বাংলাদেশেও ২৭ অক্টোবর থেকে টানা কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার জরুরি পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের (বিডব্লিউওটি) পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিডব্লিউওটি জানায়, মধ্য বঙ্গোপসাগরে আজ সকালে পূর্ববর্তী সার্কুলেশনটি লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে সাগরে সৃষ্ট এই সিস্টেমটি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২–২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপ এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ–দক্ষিণ ওডিশা উপকূলে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৮ অক্টোবর সকাল নাগাদ আঘাত হানার সম্ভাব্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এটি এখনো প্রাথমিক পূর্বাভাস। ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃত সৃষ্টি, শক্তি, গতিপথ ও স্থলভাগে আঘাতের সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এখনই আঘাত হানার স্থান নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সিস্টেমটি সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা আপাতত কম মনে হলেও এর প্রভাবে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ২৭ থেকে ২৮ অক্টোবর থেকে ১ থেকে ২ নভেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি বৃষ্টি বলয় সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া সিস্টেমটি শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গভীর বঙ্গোপসাগর ক্রমশ উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। আজ থেকেই গভীর সাগরে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার চলাচলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পরবর্তী সতর্কবার্তা অনুসরণ করুন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলুন।
কৃষকদের জন্য জরুরি সতর্কতা
কৃষিখাতে এই বৃষ্টির সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিকনির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা যাচ্ছে।
বর্তমানে দেশের অনেক অঞ্চলে আউশ বা আমন ধান পেকে কাটার উপযোগী হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে পাকা ধান দীর্ঘদিন ভিজে থাকলে জমিতেই ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া অতিরিক্ত বাতাসে পাকা ধান গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়তে পারে। তাই যাদের জমিতে ধান পেকে গেছে, তারা আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ধান কেটে ঘরে তুলে ফেলার চেষ্টা করুন। সামান্য বৃষ্টিতেও পাকা ধানের গুণগত মান নষ্ট হতে পারে।
এছাড়াও এই সময় অনেক কৃষক শীতকালীন বিভিন্ন শাকসবজি ও বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। যারা নতুন করে শীতকালীন শাকসবজি চাষ বা বীজতলা তৈরি করার কথা ভাবছেন, তারা আপাতত কয়েক দিন অপেক্ষা করুন। বৃষ্টি কেটে আবহাওয়া অনুকূলে আসলে পুনরায় চাষাবাদ শুরু করা নিরাপদ হবে।
যেসব ক্ষেতে ইতোমধ্যে সবজি বা অন্যান্য রবি ফসল রয়েছে, সেখানে পানি জমার আশঙ্কা থাকলে দ্রুত নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা রাখুন। পলিথিন বা অন্য উপায়ে কাটা ফসল ও বীজ নিরাপদ স্থানে ঢেকে রাখুন।
এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এম