কারিগরি শিক্ষা: দক্ষ হাতেই আগামীর বাংলাদেশ

  • মো. মামুন হাসান | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
কারিগরি শিক্ষা: দক্ষ হাতেই আগামীর বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

একজন তরুণ যখন হাতে একটি স্ক্রু ড্রাইভার তুলে নেন, তখন তিনি শুধু একটি যন্ত্র ধরেন না, তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি হাতিয়ার তুলে নেন। একজন শিক্ষার্থী যখন ল্যাবরেটরিতে কোনো যন্ত্র খুলে তার ভেতরের প্রযুক্তি বোঝার চেষ্টা করেন, তখন তিনি কেবল একটি পাঠ শিখছেন না, তিনি শিখছেন কীভাবে একটি দেশের উৎপাদনব্যবস্থাকে সচল রাখতে হয়। আর একজন শিক্ষার্থী যখন শ্রেণিকক্ষের জ্ঞানকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন, তখন তার শিক্ষা সনদের গণ্ডি পেরিয়ে অর্থনীতির শক্তিতে পরিণত হয়।কারিগরি শিক্ষার সৌন্দর্য এখানেই। এটি শুধু চাকরিপ্রার্থী তৈরি করে না, তৈরি করতে পারে দক্ষ কর্মী, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক। ফলে বাংলাদেশের মতো তরুণ জনগোষ্ঠীসমৃদ্ধ একটি দেশের জন্য কারিগরি শিক্ষা আসলে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ।

শিক্ষকতার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অনেক শিক্ষার্থী প্রথম দিন শ্রেণিকক্ষে এসে জানতে চায়, এই শিক্ষা শেষ করে কী করা যাবে। কয়েক বছর পর একই শিক্ষার্থী যখন নিজের হাতে কোনো যন্ত্র পরিচালনা করতে পারে, সফটওয়্যার ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান করতে পারে কিংবা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা প্রয়োগ করতে পারে, তখন তার চোখে যে আত্মবিশ্বাস দেখা যায়, সেটিই কারিগরি শিক্ষার প্রকৃত সাফল্য।বাংলাদেশ এখন এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যখন কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রশ্নগুলোকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এই বাস্তবতায় কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ তাই কোনো বিকল্প চিন্তা নয়, এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক কৌশল।

সংখ্যার ভেতরে যে সম্ভাবনা
বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিস্তার গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করছে। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে। এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একটি দেশের দক্ষ মানবসম্পদের ভিত্তি যত বিস্তৃত হয়, তার অর্থনীতির উৎপাদনক্ষমতাও তত বাড়ে।তবে শুধু প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিয়ে কারিগরি শিক্ষার সাফল্য মাপা যায় না। একটি পলিটেকনিকের ভবন যত বড়ই হোক, সেখানে যদি আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকে, শিক্ষার্থীর হাতে যদি বাস্তব কাজ না থাকে, শিক্ষক যদি শিল্পের পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রশিক্ষণ না পান, তাহলে সেই অবকাঠামো তার পূর্ণ সম্ভাবনা প্রকাশ করতে পারবে না।অর্থাৎ এখন প্রয়োজন সংখ্যাগত সম্প্রসারণের পাশাপাশি গুণগত রূপান্তর।কারিগরি শিক্ষার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থী বই পড়বে, আবার যন্ত্র ধরবে; তত্ত্ব শিখবে, আবার বাস্তবে প্রয়োগ করবে; পরীক্ষা দেবে, আবার প্রকল্প তৈরি করবে। শিক্ষা তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন শ্রেণিকক্ষ ও কর্মক্ষেত্র একই সেতুর দুই প্রান্ত না হয়ে একই পথের অংশ হয়ে উঠবে।

শ্রম রপ্তানি থেকে দক্ষতা রপ্তানি
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ কর্মরত। তাঁদের শ্রম দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা এনে দিচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতের প্রশ্ন হলো, আমরা কি শুধু শ্রমশক্তি পাঠাব, নাকি দক্ষতা পাঠাব? এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন প্রশিক্ষিত ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান, মেরিন টেকনিশিয়ান, অটোমেশন বিশেষজ্ঞ, রেফ্রিজারেশন ও এয়ারকন্ডিশনিং টেকনিশিয়ান, কেয়ারগিভার, সফটওয়্যার টেকনিশিয়ান কিংবা হসপিটালিটি পেশাজীবীর আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে মূল্য সাধারণ শ্রমের তুলনায় ভিন্ন। দক্ষতা যত বাড়ে, কাজের ধরন তত পরিবর্তিত হয় এবং আয়ের সম্ভাবনাও বাড়ে।তাই বিদেশে কর্মসংস্থানের আগে দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। প্রশিক্ষণ, সনদায়ন, ভাষা শিক্ষা, কর্মসংস্কৃতি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে পারলে বাংলাদেশের মানবসম্পদ আরও উচ্চমূল্যের বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।আমরা যদি শ্রম রপ্তানির সঙ্গে দক্ষতা রপ্তানিকে যুক্ত করতে পারি, তাহলে রেমিট্যান্সের অর্থনৈতিক প্রভাবও আরও গভীর হতে পারে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ভাষা শিখতে হবে
প্রযুক্তির পৃথিবী দ্রুত বদলাচ্ছে। অটোমেশন, রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, ক্লাউড প্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালিটিকস ও স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং ইতিমধ্যে শিল্পের ধরন বদলে দিচ্ছে।এই পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে মানুষের প্রয়োজন কমে যাবে। বরং মানুষের কাজের ধরন বদলে যাবে। যেসব কাজে পুনরাবৃত্তিমূলক শ্রম বেশি, সেখানে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়বে। একই সঙ্গে এমন দক্ষতার চাহিদা বাড়বে, যেখানে মানুষের বিশ্লেষণ, সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি পরিচালনা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা প্রয়োজন।এই জায়গাতেই কারিগরি শিক্ষার নতুন সম্ভাবনা।আগামী দিনের টেকনিশিয়ানকে শুধু একটি যন্ত্র চালাতে জানলেই হবে না। তাঁকে যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত সফটওয়্যার বুঝতে হবে, তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে, ত্রুটি শনাক্ত করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে প্রযুক্তির সঙ্গে নতুন সমাধান তৈরি করতে হবে।অর্থাৎ কারিগরি শিক্ষার হাতকে এখন প্রযুক্তির মস্তিষ্কের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠান হবে দ্বিতীয় শ্রেণিকক্ষ
বিশ্বের সফল কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষা ও শিল্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। জার্মানির দ্বৈত শিক্ষা ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে বহুল আলোচিত উদাহরণ। সেখানে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়।বাংলাদেশের বাস্তবতায়ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কারিগরি শিক্ষার অংশীদার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শিল্প পরিদর্শন, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, বাস্তব প্রকল্প, শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ যত বাড়বে, তাঁদের কর্মজীবনে প্রবেশ তত সহজ হবে।

একজন শিক্ষার্থী যদি সনদ হাতে নিয়ে প্রথমবার কর্মক্ষেত্রে গিয়ে সবকিছু শিখতে শুরু করেন, তাহলে সময় লাগে। কিন্তু শিক্ষাজীবনেই যদি তিনি কর্মক্ষেত্রের বাস্তব পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হন, তাহলে তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়ে, নিয়োগদাতার আস্থাও বাড়ে।তাই শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কারিগরি শিক্ষার বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিল্পই হতে পারে কারিগরি শিক্ষার দ্বিতীয় শ্রেণিকক্ষ।

কারিগরি শিক্ষা থেকে উদ্যোক্তা তৈরি
কারিগরি শিক্ষার সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার জায়গাগুলোর একটি হলো উদ্যোক্তা সৃষ্টি। একজন তরুণ যদি মোটরসাইকেল মেরামত জানেন, তিনি চাকরি খুঁজতে পারেন। আবার চাইলে নিজের ওয়ার্কশপ খুলে অন্যদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন। একজন কম্পিউটার টেকনিশিয়ান চাকরি করতে পারেন, আবার নিজস্ব সেবা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলতে পারেন। একজন ইলেকট্রিশিয়ান নিজের দক্ষতাকে ব্যবসায়িক সেবায় রূপ দিতে পারেন।অর্থাৎ কারিগরি শিক্ষা একজন তরুণকে শুধু চাকরির বাজারে প্রবেশের টিকিট দেয় না, চাইলে চাকরি সৃষ্টির ক্ষমতাও দিতে পারে।বাংলাদেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার এই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করতে হলে কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে ব্যবসায়িক জ্ঞান, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল মার্কেটিং, যোগাযোগ দক্ষতা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ যুক্ত করা প্রয়োজন।

শহরের আলো পৌঁছাতে হবে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে দক্ষতার বিকেন্দ্রীকরণ। একজন তরুণকে দক্ষ হওয়ার জন্য সব সময় রাজধানীতে যেতে হবে এমন নয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আধুনিক ল্যাব, দক্ষ শিক্ষক ও শিল্প সংযোগের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তাহলে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরাও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবেন।এখানে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারিগরি শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে দেশের দক্ষ মানবসম্পদের পরিধি যেমন বাড়বে, তেমনি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নও শক্তিশালী হবে।বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা যদি নিজস্ব অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা তৈরির কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে, তাহলে কারিগরি শিক্ষা শুধু চাকরির বাজারের চাহিদা পূরণ করবে না, স্থানীয় অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে।

ভবিষ্যতের বিনিয়োগ আজকের ল্যাবরেটরিতে
একটি আধুনিক ল্যাবরেটরি আসলে একটি দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ক্ষুদ্র সংস্করণ। সেখানে একজন শিক্ষার্থী যে যন্ত্রটি হাতে নেন, সেটি হয়তো আগামী দিনে কোনো শিল্পকারখানার বাস্তব যন্ত্রের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়।তাই কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবকাঠামোর পাশাপাশি যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম হালনাগাদ এবং শিক্ষার্থীর হাতে পর্যাপ্ত ব্যবহারিক কাজ নিশ্চিত করা জরুরি।শিক্ষকও এখানে বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। প্রযুক্তি যখন দ্রুত বদলায়, তখন শিক্ষকের জ্ঞানও নিয়মিত হালনাগাদ হওয়া প্রয়োজন। একজন শিক্ষক যদি নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত থাকেন, তিনি শিক্ষার্থীকেও ভবিষ্যতের কর্মক্ষেতরের জন্য প্রস্তুত করতে পারবেন।

এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়
বাংলাদেশের সামনে একই সঙ্গে কয়েকটি বড় সুযোগ রয়েছে। আমাদের রয়েছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, বিস্তৃত কারিগরি শিক্ষা অবকাঠামো, বিদেশে কর্মসংস্থানের বড় বাজার এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির বিশ্ব। এই শক্তিগুলোকে যদি একটি সমন্বিত দক্ষতা উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে আনা যায়, তাহলে কারিগরি শিক্ষা বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হতে পারে।

এখানে বিনিয়োগ মানে শুধু টাকা খরচ করা নয়। একটি আধুনিক ল্যাব তৈরি করা বিনিয়োগ। একজন শিক্ষককে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া বিনিয়োগ। একজন শিক্ষার্থীকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাতে কলমে কাজ শেখানো বিনিয়োগ। একটি মেয়েকে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া বিনিয়োগ। একজন তরুণকে নিজের ব্যবসা শুরু করার সক্ষমতা দেওয়া বিনিয়োগ।সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হলো তরুণদের ওপর আস্থা রাখা।

আমার শিক্ষার্থীদের প্রায়ই বলি, সনদ তোমার পরিচয় দিতে পারে, কিন্তু দক্ষতাই তোমার মূল্য তৈরি করবে। আজকের বিশ্বে সেই মূল্য শুধু দেশের বাজারে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও নির্ধারিত হচ্ছে।তাই কারিগরি শিক্ষাকে আর দ্বিতীয় সারির শিক্ষা হিসেবে দেখার সময় নেই। এটি হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি। আজকের একটি দক্ষ হাত আগামী দিনের একটি পরিবারকে বদলে দিতে পারে। একটি দক্ষ ব্যাচ একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। আর লাখো দক্ষ তরুণ একটি দেশের অর্থনীতির গতিপথ বদলে দিতে পারে।

ভবিষ্যৎ দরজায় কড়া নাড়ছে। সেই দরজা খুলতে প্রয়োজন দক্ষ হাত, আধুনিক জ্ঞান এবং প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সক্ষমতা। বাংলাদেশের সেই হাত আছে, তরুণ শক্তি আছে, সম্ভাবনাও আছে। এখন প্রয়োজন সেই সম্ভাবনার ওপর পরিকল্পিত বিনিয়োগ।কারণ কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগের সুফল কোনো একদিনের নয়। এর প্রতিটি সাফল্য জমা হয় একটি দক্ষ জীবনে, একটি আত্মনির্ভর পরিবারে, একটি উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে এবং শেষ পর্যন্ত একটি শক্তিশালী বাংলাদেশে।কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ তাই ব্যয় নয়, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগগুলোর একটি। আর সেই বিনিয়োগের সময় আগামীকাল নয়, এখনই।

মো. মামুন হাসান,ইনস্ট্রাক্টর ও বিভাগীয় প্রধান,ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

এসএইচ 

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। সোনালীনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের এই মতামতের অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সোনালীনিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।

Link copied!