এবার শাওনকে নিয়ে জুলকারনাইন সায়েরের পাল্টাপাল্টি পোস্ট

  • নিউজ ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
এবার শাওনকে নিয়ে জুলকারনাইন সায়েরের পাল্টাপাল্টি পোস্ট

অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওনকে ঘিরে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ওই পোস্টের জবাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে পাল্টা স্ট্যাটাস দিয়েছেন শাওন, যা নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

শুক্রবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের শাওনকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাকে ২২ ঘণ্টা হেফাজতে রেখে সম্মানের সঙ্গে ছেড়ে দিয়েছে—যা তিনি ভাগ্য হিসেবেই দেখেন। তিনি উল্লেখ করেন, আইন অনুযায়ী পুলিশ কাউকে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা আটক রাখতে পারে।

নিজের বক্তব্য জোরালো করতে গিয়ে সায়ের গুম ও দীর্ঘ আটক সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি সঞ্জিদা ইসলাম তুলির বড় ভাই সুমনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যাকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার পর আজও পরিবারের কাছে তার ভাগ্য অজানা। একইভাবে মীর আহমদ বিন কাসেমকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ আট বছর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি করে রাখার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।

সায়ের আরও লেখেন, এসব ঘটনার সঙ্গে তুলনা করলে ২২ ঘণ্টা আটক থাকার অভিজ্ঞতা ভিন্ন মাত্রার হলেও, বছরের পর বছর নিখোঁজ থাকা মানুষদের পরিবার এবং সন্তানদের মানসিক যন্ত্রণা ছিল সীমাহীন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা জানত না তাদের প্রিয়জন আদৌ জীবিত কি না—তাদের ট্রমা কতটা গভীর ছিল?

একই পোস্টে একটি চিঠির প্রসঙ্গ তুলে ধরে সায়ের দাবি করেন, সেখানে উল্লেখ থাকা রুবেল নামের একজন ব্যক্তি গত ১ ফেব্রুয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি তিনি আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগও করেন।

সায়েরের দাবি অনুযায়ী, আলোচিত ওই চিঠিটি বানোয়াট নয় এবং ওই বৈঠকের তথ্য সত্য। এমনকি শাওনের ভার্চুয়ালি সেখানে যুক্ত থাকার বিষয়টিও সত্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, সমস্যাটি হলো “প্রতিষ্ঠিত ও শিক্ষিত নাগরিকদের মেকি বিবেক”।

এই পোস্টের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন মেহের আফরোজ শাওন। সেখানে তিনি জুলকারনাইন সায়েরকে সম্বোধন করে লেখেন, তার সঙ্গে সায়েরের কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় বা শত্রুতা নেই। কয়েক বছর আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একটি তথ্যচিত্রের সূত্রে তিনি প্রথম সায়েরের নাম জানতে পারেন এবং ২০১৫ সালে একাধিকবার ফেসবুক মেসেঞ্জারে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন।

শাওনের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে সায়ের একটি পোস্টে তার নাম জড়িয়ে ভারতে অনুষ্ঠিত একটি কাল্পনিক বৈঠকের কথা বলেন, যেখানে তাকে নাকি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। কেন এমন তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তা আজও তার বোধগম্য নয় বলে জানান তিনি।

শাওন বলেন, ওই ভুয়া তথ্যের ফলেই ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে তাকে হঠাৎ এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ২২ ঘণ্টার সেই সময়জুড়ে তার সন্তান, মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্ট্যাটাসে শাওন প্রকাশ্যে তিনটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন—গত এক বছরে ওই কথিত কাগজের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হয়নি কেন এবং যদি তথ্য ভুল হয়ে থাকে, তাহলে তা স্বীকার করা হয়নি কেন।

তিনি আরও প্রশ্ন করেন, নাকি তাকে ভয় দেখিয়ে সত্য বলা থেকে বিরত রাখাই ছিল ওই পোস্টের মূল উদ্দেশ্য? একজন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কর্মী হিসেবে সায়েরের কাছ থেকে নৈতিক দায়বদ্ধতা প্রত্যাশা করেন বলেও উল্লেখ করেন শাওন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ জানুয়ারি কলকাতার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় শাওনের নাম উঠে আসার পর তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়। পরে ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শাওনকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

এম

Link copied!