ফাইল ছবি
জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে দলটির ভেতরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক দুইবারের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী ডাক্তার তাহসিনা ফাতিমাকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাওয়ার দাবি উঠেছে জামালপুর, শেরপুর ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশের মধ্যে। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় পর্যায়ের আলোচনা থেকে জানা যাচ্ছে, তাঁর দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততাকে সামনে এনে তাঁকে সংসদে নেওয়ার পক্ষে মত তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা বলছেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও নারী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার নেতৃত্বে থেকে সাংগঠনিক বিস্তারে ভূমিকা রাখেন। মহানগরী পূর্বের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি কেন্দ্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কাজ করেন এবং সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পরপর দুইবার কেন্দ্রীয় সভানেত্রী নির্বাচিত হয়ে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে পেশাজীবী জীবনেও তিনি দলঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সামাজিক ও সংগঠনভিত্তিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। ফলে উত্তর-মধ্যাঞ্চলের তিনটি জেলায় সাংগঠনিক সমন্বয় ও নারী নেতৃত্বের বিকাশে তাঁর ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
পারিবারিকভাবেও তিনি একটি শিক্ষিত ও সাংগঠনিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বাবা ছাত্রজীবনে বরিশাল মেডিকেল কলেজে সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং চিকিৎসক হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাবা একজন চিকিৎসক, যিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ডাক্তার তাহসিনা ফাতিমা তিনি বর্তমানে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসন শুধু প্রতীকী প্রতিনিধিত্ব নয়; দলগুলো এখন এসব আসনের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা দিতে চায়। বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত বা নির্যাতনের শিকার নেত্রীদের সামনে এনে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করার কৌশল দেখা যায়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে তাহসিনা ফাতিমার নাম সামনে আসা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ দলীয়ভাবে প্রচার করা হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে ২০১৮ সালে রাজনৈতিক কারণে তিনি কারাবরণ করেছিলেন, যা তাঁকে ত্যাগী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে বলে সমর্থকেরা মনে করছেন।
তবে দলীয় পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করেন, সংরক্ষিত আসনের ক্ষেত্রে জামায়াত সাধারণত কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেয়-দীর্ঘদিনের আদর্শিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নারী সংগঠন পরিচালনায় অভিজ্ঞতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য। সেই হিসাবে তাহসিনা ফাতিমা এসব মানদণ্ডের অনেকগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের রাজনৈতিক হিসাবের ওপর। বিশেষ করে দলটি সংসদে কী ধরনের নারী প্রতিনিধিত্ব দেখাতে চায়-আন্দোলন-নির্যাতনের প্রতীক, নাকি পেশাজীবী নেতৃত্ব-এই কৌশলগত প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আরেকটি দিক হলো আঞ্চলিক ভারসাম্য। জামালপুর, শেরপুর ও টাঙ্গাইল অঞ্চল থেকে জাতীয় পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব তুলনামূলক কম দৃশ্যমান-এমন যুক্তিও তাঁর সমর্থকেরা তুলে ধরছেন। তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হলে উত্তর-মধ্যাঞ্চলে দলীয় সাংগঠনিক শক্তি বাড়তে পারে বলেও তাঁদের ধারণা।
সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত কাকে মনোনয়ন দেবে তা এখনও চূড়ান্ত না হলেও তাহসিনা ফাতিমার নাম ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা দলটির ভেতরে নারী নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক বার্তা নির্ধারণের দিকটি স্পষ্ট করে। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতীকী মূল্য, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আঞ্চলিক কৌশল—এই তিনের সমন্বয়েই সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :