ছুটি কাটিয়ে স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরছে মানুষ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
ছুটি কাটিয়ে স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরছে মানুষ

ফাইল ছবি

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারো চিরচেনা ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা নগরবাসী উৎসবের আমেজ গায়ে মেখে রোববার (৩১ মে) সকাল থেকেই ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ফিরতি যাত্রায় রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে চিরচেনা উপচে পড়া ভিড় কিংবা ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়নি। বরং অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক এবং যানজটমুক্ত পরিবেশেই মানুষ কর্মস্থলে ফিরছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের ঈদে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দীর্ঘ সরকারি ছুটি থাকায় সাধারণ মানুষ একদিনে না ফিরে ধাপে ধাপে ঢাকায় ফিরছেন। ফলে মহাসড়ক ও গণপরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ তৈরি হয়নি। তবে এর মধ্যেই তৈরি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী চিত্র; ঈদের সময় যারা পেশাগত ব্যস্ততা বা অন্য কোনো কারণে ঢাকা ছাড়তে পারেননি, তারা এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ফলে রাজধানীর প্রধান প্রবেশপথ ও পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে এখন দুইমুখী যাত্রীর গমনাগমন ও এক ভিন্নধর্মী ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রোববার (৩১ মে) সকালে রাজধানীর অন্যতম প্রবেশপথ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা লঞ্চগুলো একে একে ঘাটে এসে ভিড়ছে। অন্যান্য বছর ঈদের পর লঞ্চে যে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী কিংবা হুড়োহুড়ির দৃশ্য দেখা যেত, এবার তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। নদী শান্ত থাকায় এবং টার্মিনালে বাড়তি কড়াকড়ির কারণে যাত্রীরা অত্যন্ত নিরাপদে ও স্বস্তিতে ঢাকা পৌঁছাতে পেরেছেন। বরিশাল ও পটুয়াখালী থেকে আসা একাধিক যাত্রী জানান, নির্ধারিত সময়েই লঞ্চ ঢাকায় পৌঁছেছে এবং কেবিন বা ডেকে কোনো ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।

রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ ও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো থেকে আসা দূরপাল্লার বাসগুলো কোনো ধরনের বড় যানজট ছাড়াই ঢাকায় প্রবেশ করছে। কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের কোনো দীর্ঘ সারি ছিল না এবং বাস থেকে নেমে সহজেই যাত্রীরা সিএনজি, রিকশা বা লোকাল বাসে করে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পেরেছেন। যাত্রীচাপ কম থাকার সুযোগে পরিবহন চালক বা সহকারীরাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ পাননি। 

শেরপুর রুটের এক পরিবহন কর্মী জানান, যাত্রীদের চাপ কয়েক দিনে ভাগ হয়ে যাওয়ায় এবার হুড়োহুড়ি অনেক কম।

এদিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে সকাল থেকেই ছিল মানুষের কর্মব্যস্ততা। ট্রেনগুলো প্রায় নির্ধারিত সময়েই স্টেশনে এসে পৌঁছাচ্ছে। তবে ট্রেন থেকে যেমন হাজারো মানুষ ব্যাগ-লাগেজ হাতে ঢাকায় নামছেন, ঠিক তেমনি বিপরীত দিকের প্ল্যাটফর্মগুলোতে অনেক মানুষকে ঢাকা ছাড়ার অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা গেছে। মূলত ঈদের সময় যারা ছুটি পাননি, তারা এখন ফাঁকা ঢাকায় স্বস্তিতে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন। রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, দুই দিকের যাত্রী সামলানো সত্ত্বেও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে।

দীর্ঘ ছুটির সঠিক বণ্টনের কারণেই এবার ঈদযাত্রা এবং ফিরতি যাত্রা- উভয় ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। চাপ এক দিনে পুঞ্জীভূত না হয়ে কয়েক দিনে ছড়িয়ে পড়ায় সড়ক, রেল ও নৌপথের ওপর অতিরিক্ত ধকল যায়নি।

আজ ৩১ মে ছুটির শেষ দিন হওয়ায় দুপুরের পর থেকেই রাজধানীমুখী মানুষের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে শুরু করেছে। আগামীকাল সোমবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। ফলে কর্মস্থলে যোগ দিতে বিকেল এবং সন্ধ্যার পর রাজধানীমুখী মানুষের চাপ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।

এসআই

Link copied!