মাছ-মাংসের চড়া দামে হিমশিম খাচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
মাছ-মাংসের চড়া দামে হিমশিম খাচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষ

ফাইল ছবি

রাজধানীর বাজারে মাছ ও মাংসের দোকানগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেক ক্রেতা। বাজারে এসে সবজি কেনা হলেও মাছ-মাংসের চড়া দাম শুনেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের দামে কেজিতে সর্বোচ্চ একশ টাকা পর্যন্ত ব্যবধান থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির কোনো খবর নেই। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও চালসহ অধিকাংশ মুদিপণ্যের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। তবে সবজির বাজারে চড়া দাম অব্যাহত থাকায় সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে এক-দুই পদের তরকারি দিয়েই সংসার চালাতে হচ্ছে।

বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতাকে মাছ-মাংসের দোকানে দাম জেনে ফিরে যেতে দেখা গেছে। ক্রেতা রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমাদের জন্য মাছ হলো তেলাপিয়া আর পাঙাশ, যেগুলোর কেজিও এখন প্রায় তিন শ টাকা। অন্য মাছ বা গরু-খাসির মাংসের দাম শুনে তো লাভ নেই, তাই ওদিকে উঁকি দিয়েই চলে এলাম।

যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারে তেলাপিয়া মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কাতলা ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং রূপচাঁদা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজি ওজনের রুই ও কাতলা মাছ পাইকারিতে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা বিক্রি হলেও স্থানীয় বাজারে দাম ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা। আর দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের পাঙাশ পাইকারিতে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং স্থানীয় বাজারে ২২২ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের দামেও পাইকারি ও খুচরা বাজারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। কাওরান বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি হলেও স্থানীয় বাজারে দাম ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগি পাইকারিতে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা এবং স্থানীয় বাজারে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস পাইকারি বাজারে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা হলেও স্থানীয় বাজারে ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকা। খাসির মাংস পাইকারিতে ১ হাজার ৩০০ টাকা হলেও স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, অর্থাৎ কেজিতে ১০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। ছাগলের মাংসেও কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত ব্যবধান রয়েছে।

মাছ-মাংসের পাশাপাশি সবজির বাজারেও কোনো স্বস্তি নেই। যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারে ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখী ও পটল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও কাঁকরোলের দাম ১০০ টাকা। এ ছাড়া আগাম শীতের মুলা ও ঢ্যাঁড়স ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ১৬০ টাকা, নতুন আলু ১৪০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীর মাংস বিক্রেতা শফি উদ্দিন বলেন, বাজারে আসা লোকজন মাছ-মাংস কিনুক আর না কিনুক, সবাই কয়েক প্রকার শাকসবজি কিনে নেন। সবকিছুর দাম আগের মতোই আছে, দাম কমলে তারা নিজেরাই কম দামে বিক্রি করবেন।

এদিকে মুদিপণ্যের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ২৩০ টাকা, ছোট মসুর ডাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, ছোলা ১০৫ টাকা এবং চিনি ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম রয়েছে ২০৫ টাকা।

বাজার করতে আসা মামুনুর রশীদ জানান, সরকারের কাছে তাদের একটাই দাবি—নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা। চাকরি করে পরিবার নিয়ে শহরে বসবাস করা মানুষদের প্রধান প্রত্যাশাই হলো পণ্যের দাম কমা।

এসএইচ 

Link copied!