অবৈধ ফোনের দিন শেষ, চোরাচালান বন্ধে আসছে এনইআইআর প্রযুক্তি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
অবৈধ ফোনের দিন শেষ, চোরাচালান বন্ধে আসছে এনইআইআর প্রযুক্তি

ফাইল ছবি

অবৈধভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদন, চোরাচালান এবং অনুমোদনহীন বিক্রির মাধ্যমে বছরে সরকারের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ লক্ষ্যে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) পুনরায় চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্তকরণ এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি বন্ধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন অনুযায়ী, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকার প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিটিআরসির সাম্প্রতিক কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রমগুলো শুরু হলেও শুরুতেই হ্যান্ডসেটের সংযোগ বা নিবন্ধন বিচ্ছিন্ন করা হবে না। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সচল থাকা সব হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে থাকা অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই (IMEI) নম্বরও ডেটাবেজে যুক্ত করা হবে। তবে বিদেশ থেকে আনা অবৈধ, চোরাচালান ও শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারে আসা নতুন হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে তা বন্ধের ব্যবস্থা থাকবে।

পরবর্তী বা দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন সরাসরি বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে ফোনের প্রকৃত মালিকানা যাচাই, ক্লোন ফোন শনাক্তকরণ এবং আর্থিক খাতের বিভিন্ন অপরাধ ঠেকানো সম্ভব হবে।

বিটিআরসির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট (এসএম) বিভাগ সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করবে এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলক চালুর পর তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধ ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ এবং ক্লোন সেট প্রতিরোধের মূল ফিচারগুলো স্থগিত রাখা হয়েছিল। ফলে এনইআইআরের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এবং এনবিআর দীর্ঘদিন ধরেই এনইআইআর পূর্ণাঙ্গ চালুর তাগিদ দিয়ে আসছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ সুপারিশে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে জানানো হয়, অনিবন্ধিত ও চোরাই ফোন ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ অপরাধ, চুরি এবং এমএফএস খাতের নানা জালিয়াতি সংঘটিত হচ্ছে।

এছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কেবল ২জি (2G) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত হ্যান্ডসেটের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এই সিদ্ধান্তের আওতায় ২জি ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে ধাপে ধাপে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।

এসএইচ 

Link copied!