রোজা অবস্থায় গান-বাজনা শুনলে রোজা ভেঙে যায় না—তবে এতে রোজার সওয়াব কমে যেতে পারে এবং গুনাহের আশঙ্কা থাকে। কারণ রোজা কেবল খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও মন—সবকিছুকে গুনাহ থেকে সংযত রাখার এক মহান ইবাদত।
রোজার প্রকৃত শিক্ষা কী
ইসলামের দৃষ্টিতে রোজা মানুষের আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জনের প্রশিক্ষণ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন—
“মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে।”
—সূরা নূর: ৩০
আলেমদের ব্যাখ্যায় এ আয়াত শুধু চোখের জন্য নয়; বরং সব ইন্দ্রিয়—বিশেষ করে কান ও জিহ্বাকে গুনাহ থেকে রক্ষা করার নির্দেশনা বহন করে। সুতরাং কান দিয়ে হারাম বা অশ্লীল বিষয় শোনাও এই নির্দেশনার পরিপন্থী।
হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে না, আল্লাহর কাছে তার পানাহার ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজন নেই।”
—সহিহ বুখারি
এর অর্থ হলো, কেউ যদি রোজা রেখে গুনাহে লিপ্ত থাকে, তাহলে তার রোজার মূল উদ্দেশ্য—আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া—ব্যাহত হয়।
কোন ধরনের গান-বাজনা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত
যেসব গান ও বাজনায়—
অশ্লীল বা কুরুচিপূর্ণ কথা থাকে
নারী-পুরুষের অনৈতিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়
ফাহেশা ও গুনাহের প্রচার করা হয়
বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে নফসকে উত্তেজিত করা হয়
এসব শোনা শরিয়তের দৃষ্টিতে গুনাহ। রোজা অবস্থায় এসব কাজে লিপ্ত হলে গুনাহের মাত্রা আরও বেড়ে যায় এবং রোজার সওয়াব মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে।
তাহলে কি রোজা ভেঙে যাবে?
না, গান-বাজনা শোনার কারণে রোজা ভেঙে যায় না। কারণ এতে রোজা ভঙ্গের মৌলিক কারণ—খাওয়া, পান করা বা সহবাস—ঘটে না। তবে এটি রোজার “রূহ” বা আত্মাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
রোজায় উত্তম ও বৈধ বিকল্প কী
রোজার সময় যেসব আমল কান ও মনকে পবিত্র রাখে—
কুরআন তিলাওয়াত
বাদ্যযন্ত্র ছাড়া নাশিদ
ইসলামী বয়ান ও নসিহত
জিকির, দোয়া ও দরুদ
এসব আমল রোজার সওয়াব বাড়ায় এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।
গান-বাজনা শুনলে রোজা ভাঙে না, তবে গুনাহের কারণে রোজার সওয়াব কমে যায় এবং রোজার মূল উদ্দেশ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। রমজান আত্মসংযম ও আল্লাহভীতির মাস। তাই এই সময়ে গান-বাজনা ও অনর্থক বিনোদন পরিহার করে ইবাদত, কুরআন ও জিকিরে মনোযোগ দেওয়াই একজন মুমিনের জন্য সর্বোত্তম পথ।
রোজা আল্লাহর জন্য সংযমের ইবাদত—কানকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে ভালো ও কল্যাণকর কথা শোনাই প্রকৃত তাকওয়ার পরিচয়।
এম
আপনার মতামত লিখুন :