যেসব ভুলে বাতিল হতে পারে মূল্যবান কোরবানি

  • সোনালী ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
যেসব ভুলে বাতিল হতে পারে মূল্যবান কোরবানি

ফাইল ছবি

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই উৎসবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা। তবে কেবল লাখ লাখ টাকা খরচ করে বড় পশু কেনাই কোরবানির একমাত্র শর্ত নয়; বরং কিছু জরুরি ধর্মীয় নিয়ম বা মাসআলা না জানার কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে পুরো কোরবানি। এতে যেমন আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পরকালের প্রতিশ্রুত সওয়াব থেকেও বঞ্চিত হতে হয়। তাই কোরবানি শুদ্ধ ও কবুল হওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।

কোরবানি বাতিল হওয়ার প্রথম এবং প্রধান কারণ হলো নিয়তের অসততা। ইসলাম ধর্মে যেকোনো ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। কোরবানি কেবলমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই উৎসর্গ করতে হবে। কিন্তু সমাজে যদি লোকদেখানো মনোভাব, গোশত খাওয়ার অতিরিক্ত লোভ কিংবা কোরবানি না দিলে মানুষ কী বলবে—এমন সামাজিক লোকলজ্জার ভয় কাজ করে, তবে সেই কোরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। হাদিস শরিফের প্রথম কথাই হলো, মানুষের সমস্ত কাজের ফলাফল তার নিয়তের ওপর নির্ভর করে। তাই নিয়ত যদি শতভাগ খাঁটি না হয়, তবে পুরো পণ্ডশ্রম বৃথা যাবে।

দ্বিতীয় বড় ভুলটি ঘটে সময় নির্ধারণে। বর্তমানে কেউ কেউ মধ্যপ্রাচ্য বা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশে ঈদের আগের দিনই কোরবানি করে ফেলেন। এর ফলে কোরবানি সম্পূর্ণরূপে বাতিল হয়ে যাবে। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অঞ্চলের চাঁদের হিসাব ও ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পরই কেবল কোরবানি করা বৈধ। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদের নামাজের পর থেকে ১২ই জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত-এই তিন দিন কোরবানি করার নির্ধারিত সময়। এর আগে বা পরে জবেহ করলে তা কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে না।

একইভাবে, ঈদের নামাজের আগে পশু জবেহ করলে কোরবানি শুদ্ধ হয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করে বলেছেন, ঈদের দিনে আমাদের প্রথম কাজ হলো নামাজ আদায় করা, এরপর ফিরে এসে কোরবানি করা। যে ব্যক্তি নামাজের আগেই জবেহ করল, তা কেবলই তার পরিবারের জন্য অগ্রিম গোশতের ব্যবস্থা হলো, কোরবানির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে কোনো বড় শহর বা এলাকায় যদি একাধিক স্থানে ঈদের নামাজ হয়, তবে যেকোনো একটি স্থানে জামাত শেষ হয়ে গেলেই ওই এলাকার অন্য সবাই কোরবানি শুরু করতে পারবেন।

কোরবানি বাতিলের আরেকটি বড় এবং অবহেলিত কারণ হলো পশু সঠিকভাবে জবেহ না করা। আমাদের দেশে প্রায়শই দেখা যায়, কোনো আলেম বা কোরবানিদাতা পশুর গলায় ছুরি চালিয়ে সামান্য রক্ত বের হওয়ার পরই ছুরি সরিয়ে নেন। এরপর মূল কসাই এসে বাকি অংশ কাটতে শুরু করেন। নিয়ম হলো, যিনি ‘বিসমিল্লাহ’ বলে জবেহ শুরু করবেন, তাকেই পশুর গলার প্রধান চারটি রগ (খাদ্যনালী, শ্বাসনালী এবং রক্ত চলাচলের দুটি মোটা রগ) কাটতে হবে। যদি তিনটি রগ কাটার আগেই প্রথম ব্যক্তি ছুরি সরিয়ে নেন এবং দ্বিতীয় ব্যক্তি পুনরায় ‘বিসমিল্লাহ’ না বলে কাটা শুরু করেন, তবে সেই কোরবানি তো বাতিল হবেই, উপরন্তু ওই পশুর গোশত খাওয়াও হারাম হয়ে যাবে।

কোরবানির মতো একটি পবিত্র ও আর্থিক ইবাদতকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে কসাই বা সহযোগীদের ওপর পুরো দায়িত্ব ছেড়ে না দিয়ে কোরবানিদাতাকে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এসব নিয়ম তদারকি করতে হবে। সামান্য অসচেতনতা যেন লাখ টাকার ত্যাগ আর পরকালের অমূল্য সওয়াবকে ধূলিসাৎ না করে দেয়, সে বিষয়ে সতর্ক হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

এসএইচ 
 

Link copied!