ফাইল ছবি
একসময় এই আকাশী-সাদা জার্সিই ছিল লিওনেল মেসির সবচেয়ে বড় অপূর্ণতার প্রতীক। ফাইনালের পর ফাইনাল হার, তীব্র সমালোচনা, কান্না-এমনকি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। অথচ সেই জার্সিতেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছেন, কোপা আমেরিকা জিতেছেন এবং আর্জেন্টিনার ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করেছেন। এবার সেই জার্সিতেই শেষবারের মতো মাঠে নামছেন তিনি।
বুধবার বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচ খেলবেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে এটি হবে তার ২০৮তম ম্যাচ। ২১ বছর আগে যে জার্সি গায়ে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ সেই জার্সিতেই তিনি নামতে যাচ্ছেন বিদায়ের মঞ্চে।
বিদায়ী ম্যাচের আগে নিজের নামে নামকরণ করা এজেইজা ট্রেনিং কমপ্লেক্সে শেষ অনুশীলন সেরেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অনুশীলনের পর সতীর্থ, কোচিং স্টাফ, মাঠকর্মী ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, বিশেষ কিছু মুহূর্ত, যেগুলো তিনি খুব মিস করবেন। ছবির বহরে সতীর্থ ও কোচিং স্টাফের পাশাপাশি সংস্থার সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকেও দেখা গেছে।
মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে ইতোমধ্যেই বিশেষ আয়োজন করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। প্রায় ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মনুমেন্টালে ম্যাচটির টিকিট বিক্রি শুরুর পর দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। কাতার বিশ্বকাপজয়ী অধিকাংশ সতীর্থ, অতিথি শিল্পী ও বিশেষ নানা আয়োজনে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে। এই ম্যাচে নিকোলাস ওতামেন্দি, রদ্রিগো ডি পল ও জিওভানি লো সেলসোর মতো দীর্ঘদিনের সতীর্থরা দলে রয়েছেন। ওতামেন্দিও জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।
২০০৫ সালের আগস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে মাত্র ১৮ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় মেসির। দুই দশকের ক্যারিয়ারে পথটা সহজ ছিল না। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরপর হারের পর হতাশা থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। তবে সেই সিদ্ধান্ত বদলে ফিরে আসার পরই পাল্টে যায় ইতিহাস।
২০২১ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা, পরের বছর ফিনালিসিমা এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বমুকুট এনে দেন মেসি। এরপর ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকা জেতে দল। ২০২৬ বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলে দলকে ফাইনালে তুললেও স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের পর ৩১ আগস্ট জাতীয় দল থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের ঘোষণা দেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫টি গোল নিয়ে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলদাতা মেসি। বিশ্বকাপে ৬ আসরে ৩৪ ম্যাচে ২১টি গোল করেছেন তিনি। তবে এসব সংখ্যার বাইরেও এই জার্সিতেই তিনি কেঁদেছেন, অবসর নিয়েছেন এবং আবার ফিরে এসে বিশ্বকাপ জিতে মহানায়ক হয়ে উঠেছেন। সেই দীর্ঘ যাত্রার শেষ দৃশ্য এবার মনুমেন্টালে, যেখানে ভক্তরা অপেক্ষা করছেন শেষবারের মতো এই মহাতারকার জাদু দেখার জন্য।
এসএইচ