• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

তুরাগ নদের কাছে পাওয়া বাইক তাহসিফের কি না যাছাই করছে পুলিশ


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
তুরাগ নদের কাছে পাওয়া বাইক তাহসিফের কি না যাছাই করছে পুলিশ

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (চাকরিচ্যুত) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে যুক্ত হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে নৌ পুলিশের পাশাপাশি সংস্থাটি ছায়াতদন্ত শুরু করেছে। এদিকে নিখোঁজের আগে তাহসিফের সঙ্গে থাকা আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজারবস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। বাহনটি তাহসিফের কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার আগে তাহসিফ ও দ্বীপ একসঙ্গে ছিলেন। তারা কোথায় গিয়েছিলেন, কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং তাদের শেষ গতিবিধি কী ছিল—দ্বীপের দেওয়া এসব তথ্য মেলানো হচ্ছে। তবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি পিবিআই।

নৌ পুলিশ মূল তদন্ত পরিচালনা করলেও পিবিআই ও পুলিশের অন্যান্য ইউনিট কারিগরি সহায়তা ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। মাজারবস্তি এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের মালিকানা নিশ্চিত হলে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া ও নদীর ঘাটে পৌঁছানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু মিলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যেভাবে নিখোঁজ হন তাহসিফ
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এর আগে আহমেদ শাহরিয়ায় রেজা দ্বীপ তার বাসায় যান। সেখান থেকে দুজনকে আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে বের হতে দেখা যায়। পরিবারের দাবি, দ্বীপের ডাকেই বের হয়েছিলেন তাহসিফ, এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

পরদিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তাঁর হাতের ঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে স্বজনেরা পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। প্রাথমিক সুরতহালে শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন না পাওয়া গেলেও নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া এবং পেট ফোলা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, কে এম তাহসিফ সৌরি বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও চিত্রধারণ ও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। পরবর্তীতে তাকে বিমানবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়।

তাহসিফের মৃত্যু হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি তদন্তকারীরা।

এসআই

Link copied!