• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সদর বা মহাসড়কের পাশে করার দাবি


মো. পলাশ খান, শরীয়তপুর অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সদর বা মহাসড়কের পাশে করার দাবি

ছবি: প্রতিনিধি

শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জেলা সদর অথবা ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় স্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন তাঁরা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন তাঁরা।

শরীয়তপুরবাসীর পক্ষে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপুর নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস সদর অথবা মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় স্থাপনের দাবিতে এটি আন্দোলনকারীদের তৃতীয় কর্মসূচি।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর বিকেলে ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের গাগরীজোড়া এলাকায় মানববন্ধন করা হয়। পরে ২৭ অক্টোবর সকালে ‘জাগো শরীয়তপুর’-এর ব্যানারে শরীয়তপুর পৌরসভা এলাকায় আরেকটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টি জেলা সদর কিংবা ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কসংলগ্ন কোনো সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন করা হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, আবাসন, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ, উন্নত শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা গড়ে তোলাও সহজ হবে। তাঁদের আশঙ্কা, জেলা শহর থেকে দূরবর্তী এলাকায় ক্যাম্পাস স্থাপন করা হলে এসব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের অক্টোবরে জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। ওই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ‘শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই বছরের ১২ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) খসড়া আইন প্রণয়নের জন্য চিঠি দেয়।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির খসড়া আইন প্রণয়ন করা হয়। ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি খসড়া আইনটি অনুমোদিত হয়। ওই বছরের ১২ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৩ চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শরীয়তপুর’। একই বছরের ১৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির গেজেট প্রকাশ করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখে। পরে গত ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখরকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়।

গত ১৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখর ও শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় জমি পরিদর্শন করেন শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ। ওই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত স্থানটি জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে।

স্মারকলিপি দেওয়ার বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু বলেন, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা সদর অথবা ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশে যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন করা হোক। পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগের প্রতিবাদে তাঁরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ডামুড্যায় নার্সিং ইনস্টিটিউট ও বুড়িরহাটে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে তাঁদের হতাশা রয়েছে। নার্সিং ইনস্টিটিউটে ১৫৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণের আগে শিক্ষা, যোগাযোগ, আবাসন ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আন্দোলনকারীদের মতে, জেলা সদর বা মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা তুলনামূলক সহজ হবে। একই সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা ও আবাসন সুবিধা গড়ে তোলার সুযোগও বাড়বে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসের স্থান নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে নিজেদের দাবিতে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের আশা, বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণের আগে স্থানীয় মানুষের দাবি এবং শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সুবিধার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এসএইচ 

Link copied!