• ঢাকা
  • বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

বিয়ে গোপন রাখা কি জায়েজ? যা বলছে ইসলাম


ধর্মচিন্তা ডেস্ক জুলাই ২২, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
বিয়ে গোপন রাখা কি জায়েজ? যা বলছে ইসলাম

বিয়ে কেবল দুটি মনের মিলনই নয়, এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি পবিত্র অঙ্গীকার, ইবাদত এবং সুস্থ সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি। ইসলাম বিয়েকে সহজ ও প্রকাশ্য করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে সমাজে একটি বৈধ সম্পর্ক সর্বজনীন স্বীকৃতি পায় এবং সব ধরনের সন্দেহ বা অপবাদের পথ বন্ধ হয়। তবে বর্তমান যুগে চাকরি, পারিবারিক চাপ কিংবা দ্বিতীয় বিয়ের কথা আড়াল করতে অনেকেই বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখেন। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন জাগে—ইসলামী শরিয়তে বিয়ে গোপন রাখার বিধান কী?

বিয়ে প্রকাশের গুরুত্ব ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা

ইসলামী অনুশাসন অনুযায়ী, বিয়ে এমনভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত যা সমাজ স্বীকৃত এবং সন্দেহমুক্ত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিয়ে দিয়ে দাও...” (সুরা : নুর, আয়াত : ৩২)।

বিয়ে যেন কোনোভাবেই গোপন না থাকে, সে জন্য আল্লাহর রাসুল (সা.) এটি প্রকাশ্যে আয়োজনের তাগিদ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “এই বিয়ে প্রকাশ করো, মসজিদে সম্পন্ন করো এবং এর উপলক্ষে দফ (এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র) বাজাও।” (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১০৮৯)।

বিয়ে বৈধ হওয়া আর গোপন রাখা এক নয়

ইসলামী শরিয়তে একটি বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য কিছু আবশ্যকীয় শর্ত রয়েছে। যেমন—উভয় পক্ষের সম্মতি, কনের অভিভাবক বা ওয়ালির উপস্থিতি (অধিকাংশ আলেমের মতে), দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী এবং মোহর নির্ধারণ।

এই শর্তগুলো পূরণ করে যদি বিয়ে সম্পন্ন করা হয়, তবে আইনত ও শরিয়ত মোতাবেক বিয়েটি বৈধ হয়ে যাবে। কিন্তু বিয়ে ‘বৈধ হওয়া’ আর বিয়ে ‘গোপন রাখা’—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। শরিয়তের শর্ত মেনে বিয়ে করার পরও যদি সমাজ বা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে দীর্ঘদিন তা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়, তবে তা ইসলামের আদর্শের পরিপন্থী।

প্রতারণা ও অধিকার হরণের ক্ষেত্রে ইসলামের কঠোর নিষেধাজ্ঞা

বিশেষ করে বর্তমান সময়ে অনেকে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে বা তাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং তা সম্পূর্ণ গোপন রাখেন। ইসলাম পুরুষদের শর্তসাপেক্ষে একাধিক বিয়ের অনুমতি দিলেও অবহেলা বা প্রতারণার সুযোগ দেয়নি। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে (স্ত্রীদের মধ্যে) ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনই যথেষ্ট।” (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩)।

কোনো অসৎ উদ্দেশ্য, প্রতারণা, মিথ্যা বা কারও অধিকার নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বিয়ে গোপন রাখা নিঃসন্দেহে গুনাহের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১)।

সাময়িক গোপনীয়তার অবকাশ কখন থাকে?

তবে জীবনের বিশেষ কিছু জরুরি পরিস্থিতি—যেমন জীবন বা নিরাপত্তার ঝুঁকি, চরম পারিবারিক জটিলতা কিংবা সাময়িক কোনো বৈধ সংকটের কারণে—সীমিত পরিসরে বা স্বল্প সময়ের জন্য বিয়ের বিষয়টি জানাজানি না করার অবকাশ থাকতে পারে। কিন্তু এই সাময়িক ছাড় কখনোই স্থায়ী গোপনীয়তা কিংবা কাউকে ঠকানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

ইসলামের মূল লক্ষ্য হলো, বিয়ের মাধ্যমে একটি সম্পর্ক সমাজে প্রকাশ পাবে, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং সন্তানের বংশপরিচয় সুস্পষ্ট হবে। বিয়ে গোপন রাখলে সমাজে ফিতনা, সন্দেহ ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। তাই একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে বিয়েকে লুকিয়ে না রেখে যথাসম্ভব প্রকাশ করা এবং সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।

এম

Link copied!