• ঢাকা
  • বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০

৫ কারণে ঘটতে পারে এসি বিস্ফোরণ


নিউজ ডেস্ক মার্চ ১২, ২০২৩, ০৩:২৫ পিএম
৫ কারণে ঘটতে পারে এসি বিস্ফোরণ

ফাইল ছবি

ঢাকা: শীতকালে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গরমে হঠাৎ করেই বেড়ে যায় এসির ব্যবহার। এই সময়টাতেই সাধারণত এসি বিস্ফোরণের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। 

২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। এদিন এশার নামাজের সময় হঠাৎ বিস্ফোরিত হয় নারায়ণগঞ্জের বায়তুস সালাত জামে মসজিদের কয়েকটি এসি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ২১ জন মুসল্লি। পরে চিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আরও ১২ জনের। 

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য বলছে, শুধু এটিই নয়, সে বছর এসিতে এমন অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে অন্তত ৩২টি। তার পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে এসিতে আগুনের ঘটনা ঘটে ৩৯টি। ২০২২ সালে সেটি আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮টিতে। সবশেষ গেল সপ্তাহে রাজধানীতে ৩টি বিস্ফোরণে প্রাণ গেছে ২৫ জনের। এসব বিস্ফোরণের সঙ্গে এসির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কিন্তু কেন বিস্ফোরণ হয় এসি? জানতে গিয়ে উঠে আসে ৫ কারণ। সেগুলো হলো: ১। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে অন্য গ্যাস জমে থাকা ২। এসি নিয়মিত পরিষ্কার ও মেরামত না করা ৩। চাহিদার তুলনায় কম টনের এসি প্রতিস্থাপন ৪। এক গ্যাসের কমপ্রেশারে অন্য প্রজাতির গ্যাস ব্যবহার এবং সর্বপরি ৫। নিম্নমানের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিবকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, এসি নিজেতো বিস্ফোরিত হতে পারে সেটা একটা কারণ। এছাড়া শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে যে কোনোভাবে দাহ্য কোনো গ্যাস প্রবেশ করলে আবদ্ধ পরিবেশের কারণে সেটি বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না। ফলে অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে গেলে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে সেই গ্যাস। উদাহারণ হিসেবে বলতে পারি,  কোনোভাবে একটি এসি রুমে স্যুয়ারেজের লাইন থেকে যদি গ্যাস জমে যায় তাহলে সেখান থেকে বিস্ফোরণ হয়েও কিন্তু প্রাণ ঝরতে পারে।

তড়িৎকৌশল বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ খান বলেন, এসি নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এর ভেতরে ময়লা জমে বাতাস আসার রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এ কারণে চাহিদার তুলনায় কম বাতাস সরবরাহ করতে পারে যন্ত্রটি। ফলে অতিরিক্ত চাপে বিস্ফোরণ ঘটে এই যন্ত্রে। বিশেষ করে শীতকালের পরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এসিগুলো চালু করা হয়। তখন ভেতরে অনেক লাইন লক হয়ে থাকে। তখন সেটি ছাড়লে চাহিদামতো বাতাস ছাড়তে পারে না এসিটি। যা বিস্ফোরণের কারণ হয়। 

তিনি আরও বলেন, বড় কক্ষে চাহিদার তুলনায় কম ক্ষমতাসম্পন্ন এসি প্রতিস্থাপন করলে অতিরিক্ত চাপে সেটিও  বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। উদাহারণ হিসেবে বলা যায়, ধরুন আপনি ২ টন চাহিদার একটি কক্ষে এক টনের একটি এসি লাগিয়েছেন। সেটি অনেক চেষ্টা করবে রুমটিকে ঠান্ডা করতে কিন্তু পারবে না। তখন এসিটি বিস্ফোরণের পর্যায়ে যেতে পারে। তবে সচেতন থাকলে এটা আগেই বুঝা সম্ভব। 

ফায়ার সার্ভিসের সাবেক পরিচালক (অপারেশন ও মেন্টেনেন্স) মেজর (অব.) এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, আগে এসিতে হাইড্রো ফ্লোরো কার্বন (ফ্যারন) গ্যাস ব্যবহার হতো। কিন্তু এখন পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে এটির ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। বাজারে এটা তেমন পাওয়াও যায় না। এখন ব্যবহার হয় পিওরন। আমাদের পুরোনো যেসব এসি আছে সেগুলোতে ফ্যারনের সিলিন্ডার দেওয়া। কিন্তু এখন বাজারে ফ্যারন না পাওয়ায় অনেকে ফ্যারনের সিলিন্ডারে পিওরন গ্যাস ভরেন। কিন্তু ওই সিলিন্ডার পিওরনের জন্য উপযুক্ত না। এটাই বিস্ফোরণের বড় কারণ হতে পারে।  তাছাড়া রিফিলের সময় দোকানদার কোন গ্যাস দিচ্ছে আমরা সেটা জানিও না। এটাওতো বড় কারণ। 

এখন প্রত্যন্ত গ্রামেও এসি চলছে। চায়না থেকে যে লো ক্যাটাগরির পণ্যগুলো আসছে সেগুলোর মান যাচাই হচ্ছে কি না? প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, উচিত হলো সেগুলোর নির্দেশনা দেখে যথাযথ স্থানে প্রতিস্থাপন করা, প্রয়োজনীয় কানেকশানগুলোও যাচাই বাছাই করে দেওয়া। সুইচটা ঠিক আছে কিনা দেখা।  

নিম্নমানের পণ্য নিয়ন্ত্রণে বাজার কন্ট্রোল করা না গেলে এবং মানদণ্ড নিশ্চিত করা না হলে দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র-বাংলাভিশন

সোনালীনিউজ/আইএ

Wordbridge School
Link copied!